আরেকটি অত্যাধুনিক পিসিআর ল্যাব হচ্ছে

আপডেট : ০৭ মে ২০২১, ২২:২৬

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী

অবশেষে করোনার নমুনা পরীক্ষার জন্য আরেকটি অত্যাধুনিক পলিমার চেইন রিঅ্যাকশন (পিসিআর) মেশিন বসছে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজে (রামেক)। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে নমুনা পরীক্ষার চাপ বেড়ে যাওয়ায় সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে এই মেশিনটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে জনবল সংকটের কারণে প্রথমে রামেক কর্তৃপক্ষ এই মেশিন নিতে রাজি হচ্ছিল না। তাই মেশিনটি খুলনায় পাঠানোর কথাবার্তা চলছিল বলে জানা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, মূল ভবনের তৃতীয় তলায় পুরোনো ল্যাবের পাশের দুটি কক্ষ ভেঙে নতুন ল্যাব প্রস্তুতের কাজ চলছে। আর চার-পাঁচ দিনের মধ্যে কাজ মোটামুটি শেষ হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আর ল্যাব প্রস্তুত হলেই ঢাকা থেকে মেশিনটি পাঠানো হবে। এই নতুন ল্যাবে এক শিফটে ২৮২টি নমুনা পরীক্ষা করা যাবে।

রামেক ভাইরোলজি বিভাগে এখন দুটি পিসিআর মেশিন চলছে। প্রতিটি ল্যাবে এক শিফটে ১৮৮টি এবং দুই শিফটে ৩৭৬টি নমুনা পরীক্ষা করা যায়। রামেক হাসপাতালের ল্যাবের পিসিআর ল্যাবে ৯৪টি নমুনা পরীক্ষা করা যায়। নতুন মেশিনটি চালু হলে রাজশাহীতে পিসিআর ল্যাব হবে চারটি। এছাড়া রাজশাহী বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ‘জিন-এক্সপার্ট’ মেশিনে ভর্তিকৃত রোগী ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। রামেক হাসপাতাল ল্যাবেও ভর্তি রোগী ও চিকিত্সক-নার্সদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। রামেকের দুটি ল্যাবে রাজশাহী ছাড়াও জয়পুরহাট, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং নওগাঁর সব শ্রেণি-পেশার মানুষের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে নমুনার চাপ বেড়ে যাওয়ায় রামেক থেকে বাড়তি নমুনা ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছিল। তাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এখানে আরেকটি পিসিআর বরাদ্দ দেয়। এছাড়া পাবনা মেডিক্যাল কলেজ ও বগুড়ার শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজে (শজিমেক) একটি করে পিসিআর মেশিন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

দুটি পিসিআর মেশিনে আগের ল্যাবে পরিচালনা করে রামেকের ভাইরোলজি বিভাগ। নতুন পিসিআর ল্যাবটি চলবে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের তত্ত্বাবধানে। নতুন এই ল্যাব পরিচালনার জন্য রামেকেরই ফরেনসিক বিভাগ থেকে কয়েক জন ল্যাব সহকারী নেওয়া হচ্ছে। রামেক মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. শাহ আলম বলেন, ‘আগের ল্যাবটিই করা হয়েছে ফরেনসিক বিভাগের পাঁচটি রুম নিয়ে। চিকিত্সকেরা এখন বসার জায়গা পান না। আমাদের জনবল কম। জনবলেরও ঘাটতি থাকায় আমরা প্রথমে মেশিন নিতে আগ্রহী ছিলাম না। পরে রাজশাহীর ‘বৃহত্তর স্বার্থে’ আমরা মেশিনটি নিচ্ছি। ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের দুটি কক্ষ ভেঙে তৈরি নতুন ল্যাবটি মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ পরিচালনা করবে। নতুন মেশিন দুই শিফটে পরিচালনায় অন্তত ১৪ জন কর্মচারী লাগবে। কিছু জনবল ফরেনসিক বিভাগ থেকে নেওয়া হবে। সবকিছু চূড়ান্ত হবে মেশিন আসার পর। রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাবিবুল আহসান তালুকদার বলেন, রাজশাহী বিভাগের জন্য পাওয়া নতুন তিনটি পিসিআর মেশিন পাবনা, বগুড়া ও রাজশাহী স্থাপিত হচ্ছে। নতুন মেশিনে আরো বেশি নমুনা পরীক্ষা করা যাবে। ফলে কোনো নমুনা আর ঢাকায় নিতে হবে না।