ভালো নেই লক্ষ্মীপুরের বাস শ্রমিকরা

আপডেট : ০৮ মে ২০২১, ২১:৫৫

করোনা সংক্রমণ

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

করোনায় কর্মহীন হয়ে পড়ায় ভালো নেই লক্ষ্মীপুরের বাস শ্রমিকরা। এদিকে বাস মালিকরাও এ সব শ্রমিকদের কত দিন ধরে রাখতে পারবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। দীর্ঘদিন কাজ না থাকায় বাস শ্রমিকদের অনেকেই জীবন জীবিকার প্রয়োজনে পেশা পরিবর্তন করছেন।

লক্ষ্মীপুর জেলা বাস মালিক ও শ্রমিকদের সূত্র জানায়, লক্ষ্মীপুর জেলা শহরের বাস টার্মিনাল, উত্তর তেমুহনী, দক্ষিণ তেমুহনী ও ঝুমুর এলাকা থেকে জেলার ভেতরে এবং দেশের বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল করে। এখানে বাসগুলোতে শতশত বাস চালক, সুপার ভাইজার ও হেলপার কাজ করেন। এ ছাড়া রয়েছেন কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা লোকজন। জেলা শহরের বাস টার্মিনাল ছাড়াও জেলার রায়পুর, রামগঞ্জ, রামগতি ও কমলনগর উপজেলা থেকে বিভিন্ন স্থানে বাস চলাচল করে। সেখানেও শতশত শ্রমিক কাজ করেন।

বাস ড্রাইভার আলাউদ্দিন, আনোয়ার, সাইফুল ইসলাম, হুমায়ুন কবির বলেন, ‘সিএনজি চালিত অটোরিকশায় তিন জনের স্থলে ছয় জন, মাইক্রোতে ১০ জনের স্থলে ১৫-১৮ জন উঠাচ্ছে। এতে স্বাস্থ্যবিধির কোনো নজর নাই। শুধু দূরপাল্লার বাস চললেই স্বাস্থ্যবিধির ক্ষতি হবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘অর্ধেক সিট খালি রেখে বাস চালু রাখলে করোনা বাড়বে না। বাস চালু রাখলে করোনা বাড়বে না, কারণ বাসে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী পরিবহন করা যায় কিন্তু মাইক্রো ও সিএনজি চালিত অটোরিকশায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাত্রী পরিবহন করা যায় না।’ মালিক ও শ্রমিকদের বাঁচাতে বাস চালুর দাবি করেন তারা। এদিকে বাস চালুসহ তিন দফা দাবিতে লক্ষ্মীপুরে সম্প্রতি বিক্ষোভ মিছিল করেছেন পরিবহন শ্রমিকরা। দাবি বাস্তবায়ন না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণাও দেন তারা।

লক্ষ্মীপুর জেলা বাস ও মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক হাজি শাহজাহান বলেন, ‘জেলায় শতশত বাস শ্রমিক রয়েছেন। এবার তারা ঈদে সন্তানদের নতুন জামা দূরে থাক পরিবারের খাবারও জোটাতে পারছেন না। তারা না পারছেন কাজ করতে, না পারছেন হাত পাততে। জেলার ভেতরে বাস চলাচলের কথা বলা হলেও তাতে অধিকাংশ শ্রমিকই কাজ পাবেন না।’ স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাস চলাচল করার দাবি জানান তিনি।

লক্ষ্মীপুর বাস মালিক সমিতির সভাপতি নুরনবী চৌধুরী বলেন, ‘বাস মালিক ও শ্রমিকদের দুর্দিন চলছে। করোনার এই সময়ে আমরা ব্যক্তিগতভাবে শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। তবে তা যথেষ্ট নয়। সরকারের পক্ষ থেকেও সহযোগিতা করা হচ্ছে। তাদের আরো বেশি সহযোগিতার জন্য জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি।’ লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার হোছাইন আকন্দ বলেন, ‘বাস শ্রমিকদের সহযোগিতা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে শ্রমিকের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।’