জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে উন্নয়নকাজ অব্যাহতভাবে চলে। এলাকার মানুষের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে কাজ করা সহজ হয়। শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর ব্যবস্থা যখন হোঁচট খায়, তখন আমরা দেখেছি কাজের বদলে মামলা-তদন্ত এগুলো নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। আমরা সেই জন্য শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের নীতিতে বিশ্বাসী। এলাকার নেতৃত্ব উত্তম ও সঠিক থাকলে সেখানে কাজ বেশি হয়।
তিনি গতকাল ভাণ্ডারিয়ার নদমূলায় এক দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরো বলেন, ‘আমরা আল্লাহর রহমতে দক্ষিণাঞ্চলে ৩৬ বছর ধরে অবিরামভাবে কাজ করে যাচ্ছি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আমরা সবাই মিলেমিশে কাজ করছি। আমরা সবাই এলাকার উন্নয়ন চাই এবং এর জন্য আমাদের প্রত্যাশা হচ্ছে সবার ঐক্য। দেশ-বিদেশ থেকে অর্থ-সম্পদ এনে আমরা এলাকার মানুষের উন্নয়নে কাজ করার চেষ্টা করেছি। আমি যখন ১৯৮৪ সালে প্রথম এই এলাকায় আসি, তখন এই এলাকার যোগাযোগসহ সার্বিক অবস্থা ছিল বিচ্ছিন্ন।’
তিনি বলেন, এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠ মুরব্বিরা ভালো করেই জানেন এখানে যাতায়াতের ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত দুর্গম। কাঁচা রাস্তা, সাঁকো, ছোট ছোট কাঠের সেতু পেরিয়ে পথ চলতে হতো। আজ গ্রামে গ্রামে পাকা রাস্তা, ব্রিজ-কালভার্ট দিয়ে মানুষ চলাচল করে। আঞ্চলিক মহাসড়কে ভাণ্ডারিয়া হয়ে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ ঢাকা-খুলনা-বরিশাল যাতায়াত করে। পোনা নদীতে পরপর তিন বার ব্রিজ নির্মিত হয়েছে। ভাণ্ডারিয়ায় ১০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মিত হয়েছে। সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজে এসে এই হাসপাতাল স্থাপন করেছেন। এই হাসপাতালে এখন করোনার পরীক্ষা হয়, করোনার টিকা, আইসিইউতে করোনাসহ জটিল রোগীর চিকিত্সা হয়।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘এখন ঘরে ঘরে বিদ্যুত্-সৌরবিদ্যুতের সংযোগ রয়েছে, বাতি জ্বলছে, ছাত্রছাত্রীরা বিদ্যুতের আলোয় লেখাপড়া করছে। স্কুল-কলেজে তিনতলা, চারতলা ভবনসমূহের নির্মাণকাজ চলছে। আমি যখন ভাণ্ডারিয়ায় প্রথম আসি, মানুষ তখন এক কিলোমিটার পাকা রাস্তা চেয়েছে, একতলা ভবন চেয়েছে, শহরে বিদ্যুত্ চেয়েছে। অথচ আজ ভাণ্ডারিয়া পৌরসভাসহ গ্রামগ্রামান্তরে মানুষ শহরের আদলে নাগরিক সুবিধা নিয়ে বসবাস করে। সবই আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা সম্পন্ন করছি। ১৯৮৪-১৯৮৫ সাল থেকে অদ্যাবধি বিভিন্ন সরকারের সময় এই উন্নয়নকাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে সম্পাদিত হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে এখানে ২ থেকে ৩ হাজার কোটি টাকার উন্নয়নকাজ চলমান। আমরা প্রতি মাসে একবার এলেও এলাকার উন্নয়নে গভীর মনোযোগের সঙ্গে ৩৬ বছর ধরে কাজ করছি। এলাকার দুর্যোগ-দুঃসময়ে আপনাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছি। মানুষের কল্যাণে যথাসাধ্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছি। দেশ স্বাধীন হওয়ায় আমরা সবাই মিলে একত্রে কাজ করি। এলাকার উন্নয়নে আমরা সবাই যেমন উন্নয়ন চাই, তেমনি এই উন্নয়নের জন্য ঐক্য চাই। সবাই মিলেমিশে থাকলে এলাকার উন্নয়ন হবেই। এলাকায় শান্তি আছে বলে একত্রে কাজ করে যাচ্ছি।’
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি নদমুলা তালুকদারবাড়িতে দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। মো. গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দারের সভাপতিত্বে এখানে আরো বক্তব্য রাখেন ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মহারাজ, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মৃধা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সীমা রানী ধর, জেপির উপজেলা যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. ইউসুফ আলী আকন, মো. শাহজাহান তালুকদার, মো. মেজবাহ উদ্দিন আরিফ জোমাদ্দার। দোয়া-মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা নাসির উদ্দিন।
বিকালে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি নৌপথে স্পিডবোটে কঁচা নদীর চরখালী-তেলিখালী অংশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মাণাধীন চলমান বেরিবাঁধ পরিদর্শন করেন। এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সীমা রানী ধর, পৌর কাউন্সিলর মো. গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু, জেপির উপজেলা যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. ইউসুফ আলী আকন, উপজেলা যুব সংহতির আহ্বায়ক ও পিরোজপুর জেলা পরিষদের সদস্য মো. রেজাউল হক রেজভী জোমাদ্দার, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. সাদিকুল ইসলাম, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চংঙ্কিং ইন্টারন্যাশনালের পক্ষে মি. মাজোমো উপস্থিত ছিলেন।
ভাণ্ডারিয়ায় সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি গতকাল ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় সরকারি ও তার সংসদ সদস্য হিসেবে ঐচ্ছিক তহবিলের অর্থসাহায্যের চেক বিতরণ করেন।
সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বরাদ্দকৃত অর্থের চেক, সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিলের অর্থের চেক এবং দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ঢেউটিন ও নগদ অর্থের চেক উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। দুপুরে ‘তাসমিমা ভিলা’ প্রাঙ্গণে এক কর্মসূচিতে এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভাণ্ডারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সীমা রানী ধর, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মৃধা প্রমুখ।
পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সুবিধাবঞ্চিত অসচ্ছল পরিবারের মধ্যে বেসরকারি সংগঠন দুস্থ কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে কাপড় বিতরণ করা হয়েছে। জাতীয় পার্টি জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপির উপস্থিতিতে গতকাল এই ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হয়।
সকালে উপজেলার তেলিখালী ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে প্রথমে এ ইউনিয়নের নির্ধারিত মানুষের মধ্যে কাপড় বিতরণ করেন ইউপি চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন হাওলাদার, ইউপি সদস্য বাহাউদ্দিন বাদল প্রমুখ।
এরপর উপজেলার ধাওয়া ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে এ ইউনিয়নের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে কাপড় বিতরণ করেন জেপি নেতা ফিরোজ আলম, কবির হাওলাদার প্রমুখ ইউপি সদস্য।
বিকালে উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে এ ইউনিয়নের নির্ধারিত মানুষের মধ্যে কাপড় বিতরণ করেন ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা জেপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মজিবুর রহমান চৌধুরী।
এরপর ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার সুবিধাবঞ্চিত গরিব মানুষের মধ্যে উপজেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের পরিদর্শন বাংলো প্রাঙ্গণে কাপড় বিতরণ করেন উপজেলা জেপির যুগ্ম-আহ্বায়ক ও পৌর কমিশনার গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার।
দুস্থ কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে ভাণ্ডারিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নে এই ত্রাণকাজের সমন্বয় করেন আতিক জামান খোকন ও কাজী আতাহার আলী।
