যমুনা অয়েলের তেল চুরি

দুই কর্মকর্তা স্থায়ী বরখাস্ত চার জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা

আপডেট : ০৮ মে ২০২১, ২৩:০৬

যমুনা অয়েল কোম্পানির দেড় লাখ লিটার তেল চুরির ঘটনায় কোম্পানির দুই কর্মকর্তাকে স্থায়ী বরখাস্তসহ ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গত ২৯ এপ্রিল যমুনা অয়েল কোম্পানির ভার্চুয়াল বোর্ড সভায় উপরোক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে প্রায় কোটি টাকার তেল চুরির ঘটনায় একাধিক তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন, যমুনা অয়েল কোম্পানির ইতিপূর্বেকার বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পর প্রায় সাড়ে তিন বছর পর তেল চুরির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

গত ৬ মে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের চিঠিও ইস্যু করেছে যমুনা অয়েল কোম্পানি। যাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তারা হলেন—এজিএম নুরুদ্দীন আহমেদ আল মাসুদ ও এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার আবদুর রাজ্জাক। পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির দায়দায়িত্ব নিরূপণ ও হার নির্ধারণ কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী তাদের দুজনের কাছ থেকে ৩০ লাখ ৮৫ হাজার ৭৫৬ টাকা করে ক্ষতিপূরণ আদায়ের সিদ্ধান্ত হয়। ঘটনার পর থেকে তারা সাময়িক বরখাস্ত ছিলেন।

তাছাড়া সাময়িক বরখাস্ত হওয়া আরেকজন এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার প্রিয়তোষ নন্দীর কাছ থেকে ১৮ লাখ ৯৮ হাজার ৯২৭ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় সাপেক্ষে চাকরিতে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত হয়। তবে তার প্রাপ্য তিনটি ইনক্রিমেন্ট স্থগিত করা হয়। একইভাবে সিনিয়র অফিসার সমীর কুমার পালের কাছ থেকে ৯ লাখ ৪৯ হাজার ৪৬৪ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায়সহ তার দুটি ইনক্রিমেন্ট স্থগিত করা হয়। অন্যদিকে ঘটনায় দোষী সাব্যস্থ হওয়া নুরুল আলম ও মো. জাহিদ মুরাদকে ঘটনার বিষয়ে শোকজ করার সিদ্ধান্ত হয়।

২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবর যমুনা অয়েলের গুপ্তখাল ডিপো থেকে এমটি রায়দা ও এমটি মনোয়ারা নামের দুই জাহাজে তেল পাচারের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের পরও যমুনা অয়েল কোম্পানি কোনো পদক্ষেপ না নিলেও ১০ দিন পর ৫ নভেম্বর খুলনার ভৈরত নদীতে চোরাই তেল বিক্রির সময় হাতেনাতে এমটি রায়দা নামের ট্যাংকারটি আটক করে র্যাব। ঐ সময় ট্যাংকারে থাকা ১৪ জনসহ সুমন নামের চোরাই তেলের এক ক্রেতাকেও আটক করে র্যাব। এরপরই যমুনা অয়েল কোম্পানিতে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়। বিপিসিও ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করে।

এ ব্যাপারে যমুনা অয়েল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিয়াস উদ্দিন আনছারী বলেন, বোর্ডের সিদ্ধান্তে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যদিকে চাকরি থেকে বরখাস্ত যমুনা অয়েল কোম্পানির সাবেক এজিএম (টার্মিনাল) নুরুদ্দিন আহমেদ আল মাসুদ ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমি সুবিচার পাইনি। আমি দাপ্তরিক ক্ষমতার অপব্যবহারের শিকার হয়েছি। জাহাজে কোনো মজুত ঘাটতি ছিল না। সেক্ষেত্রে কোনো আর্থিক ক্ষতিও হয়নি। ২০১৭-২০১৮ সালের যমুনা অয়েলের অডিট রিপোর্টে ক্ষতির উল্লেখ নেই। আমি নির্দোষ।’

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি দৈনিক ইত্তেফাকে এই সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর এজিএম নুরুদ্দিন আহমেদ আল মাসুদ প্রকাশিত সংবাদ প্রত্যাহারের জন্য উকিল নোটিশ পাঠান।