৫৬ বছর ধরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে সিদ্ধিরগঞ্জের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায় সবচেয়ে ভালো ফল করে থাকে এই স্কুলটিই। অধিকাংশ জিপিএ-৫ পেয়ে থাকে এই স্কুলের শিক্ষার্থীরাই। এ বিদ্যালয়ের অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পর্যায়ে কর্মরত রয়েছেন।
জানা যায়, ১৯৬২ সালে সিদ্ধিরগঞ্জ বিদ্যুত্ কেন্দ্রের আবাসিক এলাকায় তত্কালীন ব্যবস্থাপক আতিকুর রহমান ও এলডিসি’র নির্বাহী প্রকৌশলী বজলুর রহমানের প্রচেষ্টায় ছোট পরিসরে সিদ্ধিরগঞ্জ বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথম দিকে শিশু থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত মাত্র ৩ জন শিক্ষক দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালু হয়। সে সময় ইটের উপর রাখা কাঠে বই রেখে মাটিতে বসতো শিক্ষার্থীরা। এরপর বছর বছর শ্রেণি সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। ১৯৭২ সালে মানবিক ও বিজ্ঞান বিভাগসহ নবম শ্রেণি চালু হয়। ১৯৭৩ সালে এ বিদ্যালয়টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নীত হলে পরের বছর এ বিদ্যালয় থেকে প্রথমবারের মত ১৬ শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এবং সকলেই কৃতিত্বের সাথে পাস করে। ১৯৮৭ সালে বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ আবাসিক এলাকায় এল আকৃতির একটি ৩ তলা বিশিষ্ট স্কুল ভবন নির্মাণ করে। বিদ্যালয়ে রয়েছে বিশাল মাঠ, পরিবেশ যথেষ্ট নিরিবিলি। বর্তমানে এ ভবনেই শিশু থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম চলছে।
বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৯৭৫ জন ছাত্রছাত্রীর পাঠদানের জন্য ৩০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। কর্মচারী রয়েছে ২ জন। এ ছাড়াও আছে লাইব্রেরি, মাল্টিমিডিয়া ক্লাশ, আছে ১৩টি কম্পিউটার, ল্যাপটপ। প্রতি বছরই জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায় অবস্থিত সকল বিদ্যালয়ের তুলনায় এ বিদ্যালয় থেকে বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়ে পাস করছে। এ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি পরীক্ষায় ২০১৫ সালে ৫৬ জন, ২০১৬ সালে ৫৮ জন, ২০১৭ সালে ৬৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়। এসএসসি পরীক্ষায় ২০১৫ সালে ১১৬ জন অংশ নিয়ে ৫২ জন, ২০১৬ সালে ১৩৫ জন অংশ নিয়ে ৩৪ জন, ২০১৭ সালে ১৪০ জন অংশ নিয়ে ৫৭ জন, ২০১৮ সালে ১৩২ জন অংশ নিয়ে ৫১ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে। চলতি বছরের মেডিক্যালে ভর্তি পরীক্ষায় এ বিদ্যালয় থেকে পাস করা ৬ শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছে।
এই স্কুলেরই এক সময়কার ছাত্র রাশেদুল মতিন ২০০৯ সাল থেকে অত্র বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জানান, অভিজ্ঞ শিক্ষক, সুযোগ্য কমিটি ও অভিভাবকদের প্রচেষ্টায় শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করছে। আগামীতে আরও ভালো ফলাফল করতে সকলের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, দেশ ও সমাজের জন্য দায়িত্বশীল জনশক্তি তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।
