অর্ধ কোটি টাকা আত্মসাৎ, হাসপাতালের হিসাবরক্ষক বরখাস্ত

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০১৯, ২০:৩১

অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের হিসাব রক্ষক সৈয়দ মো. মাহমুদ ফুয়াদকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃংখলা ও আপীল) বিধিমালা ২০১৮ এর ১২ বিধি মোতাবেক এ আদেশ দিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক প্রশাসন ডা. আবুল কালাম আজাদের স্বাক্ষরিত পত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।  

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) বরাবর অভিযোগ দাখিল করেন হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী। এর প্রেক্ষিতে গত ২৮ অক্টোবর মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. মিনহাজ উদ্দিনকে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করা হয়।

তদন্ত রিপোর্টে জানা যায়, হিসাব রক্ষক সৈয়দ মো. মাহমুদ ফুয়াদ কোটেশনের মাধ্যমে ৪২ লাখ ছয় হাজার ৫০০ টাকা, ইউজার ফির দুই লাখ ৯৮ হাজার ৩৪০ টাকা, জেনারেটরের জ্বালানী তেল ক্রয়ের নামে চার লাখ ৫৮ হাজার ১৯১ টাকা, হাসপাতাল পরিচ্ছন্নতার নামে ১৭ লাখ ৯৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং বাসা ভাড়ার এক লাখ ৫০ হাজার টাকা সরকারি খাত থেকে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন। 
 
এছাড়া বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাত ও উপ-খাতে স্থানীয় কোটেশনের তুলনামূলক বিবরণীতে কোটেশন কমিটির সদস্য সচিব ডা. মোঃ. লুৎফর রহমানের স্বাক্ষর ছিল না। জেলা হিসাব রক্ষণ কার্যালয়ে রক্ষিত অর্থ উত্তোলিত বিলে তার জাল স্বাক্ষর পাওয়া যায়।

বরখাস্তকৃত হিসাব রক্ষক সৈয়দ মো. মাহমুদ ফুয়াদ বলেন, ‘ওয়ান সাইড তদন্ত রিপোর্টের আলোকে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি আইনের আশ্রয় নেওয়ার পাশাপাশি পুনঃ তদন্তের দাবি জানাবেন।’ 

আরো পড়ুন:  রাজশাহী কিংসকে ১৯০ রানের টার্গেট দিল সিলেট সিক্সার্স

মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মো. সাইফুর রহমান জানান, ‘তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাময়িক ভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি আদেশ বুধবার তিনি পেয়েছেন। বরখাস্তকৃত হিসাব রক্ষক সৈয়দ মো. মাহমুদ ফুয়াদকে বিষয়টি অফিসিয়াল ভাবে জানানো হয়েছে।’ 

ইত্তেফাক/অনি