সামছুন নাহার
মাতৃত্বকালীন ভাতা হলো— মাতৃত্ব তথা মা জাতির অস্তিত্বের স্বীকৃতি। এটা একই সঙ্গে একটি দায়বদ্ধতা, একটি নিরাপত্তা, একটি অধিকার এবং সর্বোপরি দরিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে অন্যতম একটি সামাজিক বিনিয়োগ। মাতৃত্বকালীন ভাতা হলো—দরিদ্র মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ও পুষ্টির উন্নয়নের লক্ষ্যে গৃহীত এমন একটি সামাজিক নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম যার মাধ্যমে গর্ভধারণকাল থেকে শুরু করে পরবর্তী ২৪ মাস পর্যন্ত নির্দিষ্ট হারে একটি নগদ অর্থ, দ্রব্য বা সমর্থনমূলক সেবা প্রদান করা। উল্লেখ্য, এ ভাতা ২০ বছর বয়সি মায়েদের শুধু প্রথম বা দ্বিতীয় গর্ভধারণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
২০০৮ সালে লক্ষ্মীপুরের তিন উপজেলার ৪৫০ জন মাতৃত্বকালীন ভাতাপ্রাপ্ত মাকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্য ও জন্ম নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষা, বাসস্থান ও নিরাপদ পয়োনিষ্কাশন, জীবিকায়ন ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং প্রয়োজনে ক্ষুদ্রঋণ— এই অধিকারভিত্তিক ‘স্বপ্ন’ স্প্যানিশ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সাহায্য সংস্থার (এইসিআইডি) আওতায় স্বপ্ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন করা হয়, যা ২০১০ সাল পর্যন্ত দুই ধাপে সম্পন্ন হয়।
১৬ এপ্রিল ২০০৫ সালে ডর্প প্রতিষ্ঠাতা এ এইচ এম নোমান ভলানটারি হেলথ সার্ভিসেস সোসাইটি (ভিএইচএসএস) আয়োজিত ট্রাভেলিং সেমিনার অন ওয়ার্কিং উইমেন অ্যান্ড মেটারনিটি প্রোটেকশন সেমিনারে ডর্প দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মায়েদের জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রবর্তন করার প্রস্তাব করেন। ৮ মে ২০০৫ সালে বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষ্যে ডরেপর মহাসচিব এ এইচ এম নোমান দরিদ্র্য নিরসনে ‘স্বাস্থ্য গ্রাম’ স্থাপনের মাধ্যমে ডর্প কর্ম এলাকায় ১০০ জন দরিদ্র মাকে মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদানের ঘোষণা দেন। মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদানের সঙ্গে সঙ্গে সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের মিটিং, অ্যাডভোকেসি, কার্যক্রমের সুফল বিষয়ে সরকারের নজরে আনার চেষ্টা অব্যাহত থাকে।
২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে জাতীয় বাজেটে মাতৃত্বকালীন ভাতা গ্রহণকারীর সংখ্যা ৪৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৬০ হাজার করা হয়। এর পর থেকে মায়ের সংখ্যা এবং ভাতার টাকা প্রতি বছরই বাড়তে থাকে। পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা ও জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা গ্রহণ করার পর থেকে তার সরকার পর্যায়ক্রমে দরিদ্র মায়েদের মাতৃত্বকালীন ভাতা দুই বছর থেকে মেয়াদ বাড়িয়ে তিন বছর, ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০০ টাকা, মায়ের সংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় ৮ লাখ করেছেন। বর্তমানে সারা দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে কম-বেশি ৫০ জন করে প্রায় ৮ লাখ দরিদ্র গর্ভবতী মা ও তার পরিবারকে মাতৃত্বকালীন ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।
মা ও তাদের শিশুদের নিয়ে নতুন ভাবনা ভাবতে শুরু করেছেন। ডর্প এই মায়েদের জন্য ২০ বছর বা এক প্রজন্ম মেয়াদি প্রকল্পের সূচনা করেছে এবং ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ১০টি উপজেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে শিশু ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় স্বপ্ন প্যাকেজ প্রকল্প শেষ হয়েছে এবং মন্ত্রণালয় কর্তৃক মূল্যায়ন হয়েছে। এ প্রকল্পের মূল কেন্দ্র হলেন মা। একজন মা-ই পারেন একটি পরিবারকে সঠিক পথে পরিচালনা করতে কেননা একজন মা শুধুমাত্র মা-ই নয়; মা একজন মায়ের দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সঙ্গে আরো অনেক দায়িত্ব পালন করেন। তাই একজন মা হলেন সব কিছুর ভিত্তিমূল অর্থাত্ মাকে বটম লাইনিং করে স্বপ্ন প্যাকেজ প্রকল্প প্রাথমিক পর্যায়ে বাছাইকৃত ১০০ উপজেলায় শুরু করলে ‘বিশ্ব মা দিবস ২০২১’ সফল হবে।
ছবি : ইন্টারনেট
