তাদের ইফতার-অপেক্ষা

আপডেট : ০৯ মে ২০২১, ২২:১১

মুন্না রায়হান

করোনা মহামারির আগের বছরগুলোতে ইফতার কিনতে খুব বেশি সমস্যা হতো না নাজমুলের। নাজমুলের বয়স ৩০-এর কাছাকাছি। সে রাজধানীর বিমানবন্দর রেল স্টেশনে কুলির কাজ করে। অন্য সময় একটা বড় ব্যাগ গাড়ি থেকে নামিয়ে ট্রেনে উঠিয়ে দিলে পেত ২০/৩০ টাকা। আর রমজানের সময় একই ব্যাগ নামিয়ে পেত ৫০ টাকা। তাই দিন শেষে ৫০০-৭০০ টাকা আয় করা কোনো ব্যাপারই ছিল না নাজমুলের। কিন্তু গত দুই বছর করোনার আঘাতে এই চিত্র পালটে গেছে। এখন সারা দেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায়  স্টেশনগুলো যেন জনমানব শূন্য হয়ে পড়েছে। গতকাল রবিবার বিকালে বিমানবন্দর রেল স্টেশনে প্লাটফরমে কথা হয় নাজমুলের সঙ্গে। এখানে নাজমুলের মতো বিভিন্ন বয়সের আরো পাঁচ-সাত জন ছিল। তারা সবাই এখানে কুলির কাজ করে। এদের মধ্যে বেলাল ও হাফিজের বয়স ৪০-এর কাছাকাছি। তারা জানালেন, প্রতি বছর নিজের আয়ের পয়সা দিয়ে ইফতার করতেন। কিন্তু এবছর ট্রেন বন্ধ থাকায় আয়-রোজগার নেই। তাই নিজেরা ইফতার কিনতে পারেন না। সমাজের বিত্তবান আর বিভিন্ন সংগঠন রোজার সময় ইফতার পাঠায়। এ ইফতারের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় তাদের।

বেলাল বলেন, ‘সব দিন যে ইফতার আসে তাও না। মাঝে মাঝে বাদও যায়। আবার কখনো কখনো ভালো মানের ইফতারও পাওয়া যায়।’ যদি ঈদের আগে ট্রেন চালু না হয় তাহলে নাজমুল, বেলাল ও হাফিজ উত্তরায় রিকশা চালানো শুরু করবে বলে জানায়।

এই বিমানবন্দর স্টেশনের সামনে ভ্যানে করে বিভিন্ন পোশাক বিক্রি করে বেশ কয়েক জন। ঈদের আগে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় গাড়ি চলাচল শুরু করায় কেনাকাটা করছে বেশকিছু মানুষ। তবে বড় বড় শপিংমলগুলোতে যতটা ভিড় দেখা যাচ্ছে ততটা ভিড় নেই ফুটপাতের দোকানগুলোতে। এ ব্যাপারে কাপড় বিক্রেতা হোসেন আলী জানালেন, সাধারণত ফুটপাত থেকে কাপড় কেনে শ্রমজীবী গরিব মানুষেরা। করোনাতে তাদের আয়-রোজগার নাই নতুন কাপড় কিনবে কিভাবে? তারপরও ভ্যানে কাপড় নিয়ে বসেছি যদি কিছু কেনাবেচা হয়। দেখা গেল, হোসেন আলী ইফতার বানাচ্ছেন ১২ জনের। এই ১২ জনই এখানকার কাপড় ব্যবসায়ী। রমজান মাস জুড়ে তারা এখানে একসঙ্গে ইফতার করছেন। ইফতারে কি কি আছে জানতে চাইলে হোসেন আলী জানান, মুড়ি, ছোলা, পেঁয়াজু, বেগুনি আর ঠান্ডা পানি দিয়ে লেবুর সরবত।

হোসেন আলী জানান, লকডাউনে কাজ না থাকয় শহরের অসহয় দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছে। অনেকে ঠিকমতো খাবার পাচ্ছে না। এঅবস্থা চলতে থাকলে মানুষের বেঁচে থাকাই কষ্টকর হয়ে পড়বে বলে জানান। এদের মধ্যে একজন কুড়িগ্রামের বাহার কেমন আছেন জিজ্ঞেস করলে, বলেন ভালো নেই। গত একমাস বাড়িতে পরিবারের কাছে এক টাকাও পাঠাতে পারিনি। পরিবার কীভাবে চলছে আল্লাহ জানে। আলাপচারিতার মধ্যেই মাগরিবের আজান শুরু হয়। সবাই ইফতারে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।