ব্রেক্সিট: ইইউ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আরও আলোচনা করবেন মে

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৪৩

ব্রেক্সিট নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আরও আলোচনা করবেন বিট্রিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। ব্রেক্সিট চুক্তিতে ‘ব্যাকস্টপ’ নামে পরিচিত আয়ারল্যান্ডের সীমান্ত নিয়ে উল্লিখিত ধারা পরিবর্তন করে ‘বিকল্প একটি ব্যবস্থা’ গ্রহণের জন্য মেকে এই আলোচনার তাগিদ দিয়েছেন ব্রিটিশ এমপিরা। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব মঙ্গলবার পার্লামেন্টে পাস হয়েছে।

সরকারি দল কনজারভেটিভ পার্টির প্রভাবশালী পার্লামেন্ট সদস্য স্যার গ্রাহাম ব্রেডির উপস্থাপন করা বিলটি ১৬ ভোটের ব্যবধানে পাস হয়। এর পক্ষে পড়ে ৩১৭ ভোট আর বিপক্ষে ৩০১ ভোট। প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন, যাতে করে ইইউর সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করে একটি ‘আইনগত বাধ্যবাধকতামূলক পরিবর্তন’ আনা সম্ভব হয়।

প্রস্তাবটি পাস হওয়ার পর মে বলেন, ‘আজ রাতে সংসদের সম্মানিত সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্যরা বলেছেন, তারা ব্যাকস্টপ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ব্রেক্সিট চুক্তিকে সমর্থন দেওয়ার পক্ষে। ফলে এটা এখন পরিষ্কার যে, এই সংসদে উল্লেখযোগ্য সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্য আছেন, যারা একটি চুক্তির মধ্য দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসতে চান।’  ‘যত দ্রুত সম্ভব’ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা করে সংসদে একটি ‘অর্থপূর্ণ ভোটের’ জন্য নিজের খসড়া পরিকল্পনা ফিরিয়ে আনবেন বলেও জানান তিনি। ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক অবশ্য বলেছেন, ব্যাকস্টপ ব্রেক্সিটের একটি অংশ, এটার আইনি কোনো পরিবর্তন আনা হবে না।

ব্রিটেনের পাশেই আয়ারল্যান্ডের অবস্থান। আয়ারল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ। এ দিকে, উত্তর আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে আয়ারল্যান্ডের সীমান্ত রয়েছে। ব্যাকস্টপ হলো, এই সীমান্ত উন্মুক্ত রাখার নিশ্চয়তা। আর উন্মুক্ত রাখার অর্থই হচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইনের অধীনে থাকা। যুক্তরাজ্য যদি ইইউ থেকে বেরিয়ে যায়, তাহলে এই সীমান্ত কেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইনের অধীনে থাকবে, তা নিয়েই জটিলতা।  

এ দিকে, মঙ্গলবার রাতে ব্রিটিশ এমপিরা কোনো চুক্তি ছাড়াই ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে আসার বিষয়টিও নাকচ করে দিয়েছেন। এরপর বিরোধী দলীয় লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন বলেন, যেহেতু ব্রেক্সিট থেকে ‘চুক্তিহীন’ বেরিয়ে আসার বিষয়টি সমাধান হয়েছে, তাই তিনি এখন এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন। উল্লেখ্য, ১৫ জানুয়ারি ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মের আনা একটি বিল পার্লামেন্টে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়। তারপর আস্থা ভোটেরও মুখোমুখি হন মে। তবে সেটি কোনোমতে উতরে গেছেন তিনি।