নির্বাচনের আগে ভারত জুড়ে সামপ্রদায়িক দাঙ্গার আশঙ্কা!

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৪৭

আগামী মে মাসে সাধারণ নির্বাচনের আগে ভারতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার আশঙ্কা বেশ প্রবল। হিন্দু জাতীয়তাবাদী শক্তি ও হিন্দু ভাবাবেগকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পেরনোর চেষ্টা করলে আরও বাড়বে দাঙ্গার আশঙ্কা। যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভার প্রভাবশালী সিনেট সিলেক্ট কমিটিকে গুপ্তচর বাহিনীর প্রধান অর্থাত্ ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স ড্যান কোটস এ প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। এ ছাড়া পাকিস্তান-ভারত সম্পর্ক নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

২০১৯ সালে সারা বিশ্বে কোথায় বিপদ লুকিয়ে আছে, তা নিয়েই এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গুপ্তচর সংস্থা। সেখানেই উঠে এসেছে ভারতের প্রসঙ্গ। সেই প্রতিবেদনে সাধারণ নির্বাচনের আগে মে মাস পর্যন্ত ভারতের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচররা। খবর আনন্দবাজার পত্রিকা

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের সিনেট সিলেক্ট কমিটিকে ড্যান কোটস স্পষ্টভাবে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ভারতীয় জনতা পার্টি হিন্দু ভাবাবেগকে ব্যবহার করার চেষ্টা করলে আগামীতে লোকসভা নির্বাচনের আগে ভারতে বাড়বে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনা। সারা বিশ্বের বিপদ নিয়ে এ প্রতিবেদন উপস্থাপনের আগে এফবিআই, সিআইএ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের গোয়েন্দা প্রধানও হাজির হয়েছিলেন কংগ্রেসের সিনেট সিলেক্ট কমিটির সামনে। এদের মধ্যে অন্যতম যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ প্রধান জিনা হ্যাসপেল কিছু দিন আগেই ভারত সফর করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচরদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিন্দুত্ববাদী নীতি নেওয়ার কারণে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে ইতোমধ্যেই সাম্প্রদায়িক বিভেদ মাথা চাড়া দিয়েছে। আগামী নির্বাচনে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব আবার হিন্দুত্ববাদী পথে হাঁটলে নিচুস্তরের কর্মীরা সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটাতে উত্সাহ পাবেন। সে ক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবেই বাড়বে হিংসার ঘটনা। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচররা সতর্ক করে বলেছেন, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনা বাড়লে আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে দেশের মুসলমান সম্প্রদায়। সেই সুযোগ নিয়ে মুসলমান সমাজে প্রভাব বাড়াবে বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীও।

নির্বাচনের পাশাপাশি ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী মে মাস পর্যন্ত এ সম্পর্ক একদম তলানিতে পৌঁছবে বলেই আশঙ্কা যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচরদের। তাদের দাবি, সীমান্ত সন্ত্রাস, নিয়ন্ত্রণ রেখায় গোলাগুলি, ভারতের নির্বাচন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে পাকিস্তানের আশঙ্কার কারণে মে মাস পর্যন্ত ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে উত্তেজনা থাকবে। এ মুহূর্তে দুই দেশই অত্যন্ত অনড় অবস্থায় আছে এবং মে মাস পর্যন্ত শান্তি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দারা।