মেহেরপুরের ট্রেজারি অফিসার ও এনডিসি রাকিবুল ইসলামের স্বাক্ষর জাল করে পাঠানো ‘ভুয়া’ চাহিদার ১৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকার স্ট্যাম্প আসার দুই দিন পরই সেই স্ট্যাম্প ফেরত পাঠিয়েছেন মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক। স্বাক্ষর জাল করার এ কাণ্ডটি ঘটিয়েছেন নেজারত শাখার প্রধান অফিস সহকারী রফিকুল ইসলাম। এ ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন। তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছেন জেলা প্রশাসক।
চাহিদা পাঠানোর পর এক মাস পর্যন্ত সময় লাগে স্ট্যাম্প আসতে। কিন্তু চাহিদা পাঠানোর মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে স্ট্যাম্প চলে আসার কারণে সন্দেহ হলে তা যাচাই-বাছাই করে অসংগতি ধরা পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, ডাক বিভাগের একটি মহলের সঙ্গে যোগসাজশে নাজির রফিকুল ইসলাম এ কাজ করেছেন।
জানা গেছে, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর ও ট্রেজারি অফিসার রাকিবুল ইসলামের স্বাক্ষর জাল করে নেজারত শাখার প্রধান অফিস সহকারী রফিকুল ইসলাম বাংলাদেশ ডাক বিভাগে (বিপিও) ১৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকার স্ট্যাম্প চাহিদা প্রেরণ করেন। সেই চাহিদার স্ট্যাম্প বৃহস্পতিবার মেহেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পৌঁছায়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রধান অফিস সহকারী (নাজির) রফিকুল ইসলাম সেই স্ট্যাম্প গ্রহণ করেন।
স্ট্যাম্প সরবরাহ করতে আসা বাংলাদেশ ডাক বিভাগের সহকারী পরিদর্শক আবুল বাশার দেওয়ান জানান, স্ট্যাম্প ট্রেজারিতে সংরক্ষণ না করে বাইরে সংরক্ষণ করায় তার সন্দেহ হয়। তিনি ট্রেজারি অফিসার এনডিসি রাকিবুল ইসলামকে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি স্ট্যাম্পের চাহিদা প্রদান ও গ্রহণের করার বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান। জেলা প্রশাসক শনিবার মধ্যরাতে স্ট্যাম্পগুলো ফেরত পাঠিয়ে দেন বাংলাদেশ ডাকবিভাগ ঢাকাতে। এ ঘটনার পর থেকে নেজারত শাখার প্রধান অফিস সহকারী (নাজির) রফিকুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন। এদিকে এ ঘটনায় মেহেরপুর সদর থানায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়ারি করা হয়েছে।
মেহেরপুরের ট্রেজারি অফিসার ও এনডিসি রাকিবুল ইসলাম বলেন, চাহিদা পাঠানোর মাত্র সাত দিনের মধ্যে স্ট্যাম্পগুলো চলে এসেছে। যেটা কখনোই এক মাসের আগে সম্ভব নয়। আশপাশের জেলাগুলোর চাহিদা একত্রিত করার পর তবেই ডাক বিভাগের গাড়ি আসে। এছাড়া জেলা প্রশাসকের ট্রেজারি শাখা থেকে যে চাহিদাপত্র পাঠানো হয় তার থেকে কম দেয়। কিন্তু এক্ষেত্রে চাহিদা শতভাগ পাঠিয়েছে তারা। কয়েক বার সরকারি ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করার পর তবেই স্ট্যাম্প আসে। এক্ষেত্রে কোনোটিই করা হয়নি। বিষয়টি জেলা প্রশাসক স্যার জানতে পেরে স্ট্যাম্পগুলো ফেরত পাঠিয়েছেন।
মেহেরপুর সদর থানার ওসি শাহ দারা খান বলেন, স্বাক্ষর জাল করে স্ট্যাম্প আনার ঘটনায় থানায় একটি জিডি হয়েছে। জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ মুনসুর আলম খানের সরকারি মোবাইল ফোনে কয়েক বার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
