পয়েন্ট তালিকায় সবার ওপরে থেকেই চট্টগ্রাম পর্ব শুরু করেছিল চিটাগং ভাইকিংস। তবে ঘরের মাঠেই যেন চরম বিপর্যয় অপেক্ষা করছিল তাদের জন্য। টানা তিন ম্যাচে হেরে যাওয়ায় শীর্ষস্থান হারানোর পাশাপাশি বিপিএল থেকেই ছিটকে পড়ার শঙ্কায় ছিল দলটি। তবে কথায় বলে, শেষ ভালো যার, সব ভালো তার। গতকাল সেই ভালো কাজটি করেছে মুশফিকের দল।
চট্টগ্রাম পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে শক্তিশালী ঢাকার বিরুদ্ধে জয় তুলে নিয়েছে তারা। ‘অতি প্রয়োজনীয়’ এই জয়ের মধ্য দিয়ে শুধু জয়ের ধারায় ফিরে আসাই নয়, এর পাশাপাশি তৃতীয় দল হিসেবে সেরা চারে স্থান করে নিয়েছে তারা। ১১ ম্যাচে ৭ জয়ে তাদের পয়েন্ট এখন ১৪। ভাইকিংসের আগে সেরা চারে পৌঁছে যাওয়া দল দুটি হলো মাশরাফির রংপুর রাইডার্স ও ইমরুল কায়েসের কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস।
টানা বিপর্যয়ের পর জয়ের ধারায় ফিরে আসার অনুভূতি জানতে চাওয়া হয় ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আসা দলের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান কারমেন ডেলপোর্টের কাছে। দক্ষিণ আফ্রিকার এই ব্যাটসম্যান খুব সংক্ষেপে উত্তর দিলেন, ‘খুব প্রয়োজন ছিল এই জয়টা। স্বস্তির জয়। টানা তিন ম্যাচ হারার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেলাম। আমাদের ১২টা ম্যাচের মধ্যে চট্টগ্রামেই তিনটা ম্যাচ আমরা হেরেছি। এই জয়টা নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছি।’
গতকাল ঢাকার বিপক্ষে প্রথমে ব্যাটিং করে ১৭৪ রানের স্কোর দাঁড় করায় ভাইকিংস। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে উইকেটের সাম্প্রতিক যা চরিত্র তাতে ঢাকার মতো টিমের বিপক্ষে এই স্কোর নিয়ে নিশ্চিন্তে থাকার কোনো সুযোগ নেই। এই সত্যটা স্বীকার করে ডেলপোর্ট বললেন, ‘এ ধরনের উইকেটে রান পাওয়াটা খুব জরুরি। তবে আজ আমাদের স্কোরটা খুব ভালো ছিল না। বোলাররা ভালো বল করাতে আমরা শেষ পর্যন্ত ম্যাচটা জিতলাম। এই জয়টা আমাদের প্লেঅফের জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’
চট্টগ্রামে ভাইকিংসের হতাশাজনক পারফর্মেন্সের কারণ জানতে চাইলে ডেলপোর্ট বলেন, ‘আমাদের খেলোয়াড় খারাপ ছিল না। কিন্তু গত কয়দিন তারা নিজেদের সুনাম অনুযায়ী খেলতে পারছিলেন না। আজ ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং সব সাইডেই ভালো হয়েছে। আমাদের কমপক্ষে দুই পয়েন্ট দরকার ছিল। সেটা আমরা আজকে পেয়ে গেলাম।’
অন্তিম মুহূর্তে খেলা ভাইকিংসের দিকে ঝুঁকে পড়ার কারণ হিসেবে সাকিব ও রাসেলের মধ্যে কার আউটকে বেশি জরুরি বলে মনে করেন ডেলপোর্ট। বলেন, ‘রাসেল ডেথ ওভারে একজন বিপজ্জনক ব্যাটসম্যান। তার ব্যাটে-বলে যেভাবে হচ্ছিল তাতে অবশ্যই ভয় ছিল। সাকিবও দারুণ খেলেছে। সে এক-দুই করে স্কোর এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতে ওই দুইজন আউট হওয়ার পর ম্যাচটি আমাদের দিকে ঝুঁকে পড়ে।’
