আজ ১২ মে আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস। ১৯৬৫ সাল থেকে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য Nurse A Voice To Lead : Vission For Future Health Care। এ প্রসঙ্গে আইসিএন সভাপতি অ্যানেট কেনেডি বলেছেন, ‘কোভিড-১৯ মহামারি দেখিয়েছে বিশ্বজুড়ে নার্সরা মানুষকে আজীবন সুস্থ রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।’
গেল বছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয় ২০৩০ সালের মধ্যে ৬০ লাখ নার্সের দরকার হবে। বর্তমানে বিশ্বে মোট স্বাস্থ্যকর্মীর অর্ধেক নার্স। তবে বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবায় নার্সের সংখ্যা নগণ্য—প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য ১.৭৫ জন নার্স কাজ করেন। বাংলাদেশে প্রায় ২.৫ লাখ নার্সের প্রয়োজন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন মোতাবেক ডাক্তার ও নার্স অনুপাত হওয়া উচিত ১:৩। কিন্তু একজন ডাক্তারের বিপরীতে রয়েছেন ০.৫৬ জন নার্স। যার কারণে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সেবাদানের চিত্র অতি করুণ। সরকার ২০২০ সালে ৫০৫৪ জন নার্স এবং শীঘ্রই আরো ২৫০০ জন নার্স নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ডাক্তার-নার্স-হেলথ টেকনিশিয়ানের অনুপাত ১:৩:৫ হওয়ার কথা থাকলেও বাংলাদেশে ১:০.৫:০.২৫। নার্স, হেলথ টিকনিশিয়ান ও মেডিক্যাল এটেনডেন্ট জাতীয় স্বাস্থ্যকর্মীর অপ্রতুলতার পাশাপাশি তাদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, স্বীকৃতি, আর্থিক অবস্থা এবং সামাজিক মর্যাদার অবস্থাও খুব খারাপ। অথচ একজন রোগীর হাসপাতালে অবস্থানের সময়ের ১০০ ভাগের এক ভাগ সময় মাত্র ডাক্তারের সেবা প্রয়োজন হয়, বাকি সময় প্রয়োজন হয় নার্স ও মেডিক্যাল এটেনডেন্টের সেবা।
করোনা আমাদের স্বাস্থ্যখাতের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি এ খাতে একটা বড় রকমের প্রবৃদ্ধির সুযোগও তৈরি করেছে। আমাদের স্বাস্থ্য খাতে ডাক্তারদের বাইরে যে বিশাল একটি জনবল সম্পৃক্ত রয়েছে, তাদের প্রতি আমরা যথাযথ গুরুত্ব দিইনি। স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং নার্সিং পেশায় কোভিড ১৯-এর প্রভাব এবং ভবিষ্যতে কীভাবে এগুলি প্রভাবিত হতে পারে সেটার গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে এবারের প্রতিপাদ্য বিষয়ে।
ছৈয়দ আহমদ তানশীর উদ্দীন
নার্স ও পুষ্টিবিদ,
কক্সবাজার
