শরীয়তপুরে দাদপুর-লক্ষ্মীপুর সড়কে ধস

আপডেট : ১১ মে ২০২১, ২১:২৭

যাতায়াতে দুর্ভোগ

অনল কুমার দে, শরীয়তপুর প্রতিনিধি

প্রায় এক বছর ধরেই ধসে যাচ্ছে সড়কের কয়েকটি অংশ। গত এক মাস ধরে আবার ঐ সড়কে ধস শুরু হয়। এতে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয়রা। এ ব্যাপারে লিখিতভাবে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরকে (এলজিইডি) জানানো হয়েছে। চিত্রটি শরীয়তপুর সদর উপজেলার দাদপুর-লক্ষ্মীপুর সড়কের। গতকাল মঙ্গলবারও ঐ এলাকায় গিয়ে ধসে যাওয়ার একই অবস্থা গেছে। জানা গেছে, গত বছর দক্ষিণ ভাসানচর এলাকায় ২০০ মিটার অংশ খালে ধসে পড়ে। গত এক মাস যাবত্ আবার ঐ এলাকায় সড়কে ধস শুরু হয়। তাতে আরো ২০০ মিটার সড়কের অংশ ধসে পড়েছে। ঐ সড়কের দক্ষিণ ভাসানচর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের এক পাশে ফসলি জমি ও মানুষের বসতবাড়ি আর অন্যপাশে প্রবহমান খাল। সড়কের ঐ অংশ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে ভ্যান-রিকশা চলাচল করছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্র জানায়, শরীয়তপুর জেলা শহরের সঙ্গে সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা, মাদারীপুরের সদর ও কালকিনির বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতের জন্য আংগারিয়া-সুবচনি সড়ক রয়েছে। ঐ সড়কের দাদপুর এলাকা থেকে দাদপুর-লক্ষ্মীপুর সড়ক পাকা করার উদ্যোগ নেয় এলজিইডি। ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে দাদপুর-লক্ষ্মীপুর সড়কের আড়াই কিলোমিটার পাকা করা হয়। ঐ সড়কের পাশ দিয়ে একটি খাল প্রবাহিত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে গত বছর ঐ খালটি খনন করা হয়। খনন করার পরই সড়কের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়।

শরীয়তপুর সদর উপজেলার নিয়াতমপুর গ্রামের বাসিন্দা রোকসানা আক্তার বলেন, ‘তিন বছর আগে সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু এখনই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে গেছে। সড়কটি যেভাবে ধসে গেছে তাতে বেশি দিন চলাচল করতে পারব না। এখনই ঐ অংশ অতিক্রম করার সময় অটো-রিকশা থেকে নেমে যেতে হয়।’ শরীয়তপুর ও মাদারীপুরের বিভিন্ন গ্রামের হাটে গবাদি পশু ক্রয়-বিক্রয়ের ব্যবসা করেন লক্ষ্মীপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন সরদার। ছোট গাড়িতে করে এ সড়কটি ব্যবহার করে তা আনা-নেওয়া করতেন। এক বছর যাবত্ সড়কটি দিয়ে পিকাপ ভ্যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েছেন তিনি। দেলোয়ার হোসেন বলেন, সড়কটি ধসে যাওয়ার কারণে কোনো বড় গাড়ি চলাচল করতে পারে না। আমাদের এখন ১০ কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথে মালামাল আনা-নেওয়া করতে হয়। তাতে সময় ও খরচ বেশি লাগছে।

আঙ্গারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘গত বছর দাদপুর-লক্ষ্মীপুর সড়কের পাশের খালটি খনন করা হয়। তখনই সড়কে ফাটল দেখা দেয়। ঐ সময়ে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। সড়কটি সংস্কার করার উদ্যোগ নিতে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলীকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’ এলজিইডির শরীয়তপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, ‘দাদপুর-লক্ষ্মীপুর সড়কে ধসের তথ্য আমাদের কাছে এসেছে। ঐ সড়কটি সংস্কার করতে কিছু সময় নিতে হবে। কারণ ইমার্জেন্সি কাজ করার বরাদ্দ আমাদের হাতে নেই। তারপরও সড়কটি পরিদর্শনে যাব, বিষয়টি ঊর্ধ্বতনদের জানাব।’