দেশের বিভিন্ন হাসপাতালগুলোতে অনেক অব্যবস্থাপনা বিরাজ করছে। কোথাও কোথাও হাজির না থেকেই বেতন নিচ্ছেন চিকিত্সকরা। কোথাও আবার মাসের পর মাস নেই পানির ব্যবস্থা।
মিঠাপুকুরে চিকিত্সকসহ ৩০ জনকে শোকজ
মিঠাপুকুর (রংপুর): মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিত্সকসহ অনুপস্থিত সেই ৩০ জনকে শোকজ করা হয়েছে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার কারণ দর্শানোর নোটিস প্রদান করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। নোটিসে সবাইকে তিনদিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সকসহ মোট ৩৫ জন কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে গত সোমবার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ অনুপস্থিত ছিলেন ৩০ জন। অনুপস্থিতিদের মধ্যে স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা. হিরম্ব কুমার রায় ও ৫ জন চিকিত্সক ডা. সফুরা বেগম, ডা. রাশিদুল আমীর, ডা. মাহবুব, ডা. মমিনুল, ডা. সুমাইয়া এবং নার্সসহ ৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ছিলেন। সোমবার সকাল সোয়া ৮টায় রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. অমল চন্দ্র সাহা আকস্মিক পরিদর্শনে এসে তাদেরকে অনুপস্থিত দেখতে পান। তিনি হাজিরা খাতায় ওই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিত ঘরে লাল চিহ্ন দিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডা. হিরম্ব কুমার রায় ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এটা একটা নিয়মিত প্রক্রিয়া। এর অংশ হিসেবে সিভিল সার্জন আমাকে শোকজ করছেন। আমি আমার অধীনস্থদের শোকজ করেছি।
ফুলবাড়ি উপজেলার ৭ ইউনিয়নের ৫টিতেই ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র নেই
ফুলবাড়ি (দিনাজপুর): দিনাজপুরের ফুলবাড়ি উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ৫টিতেই ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র নেই। এতে প্রত্যন্ত এলাকার বৃহত্ দরিদ্র জনগোষ্ঠী বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের কাছে চিকিত্সাসেবা এবং পরামর্শ না পেয়ে হাতুড়ে চিকিত্সকদের শরণাপন্ন হয়ে অপচিকিত্সার শিকার হচ্ছেন। পাশাপাশি শহরে গিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের কাছে স্বাস্থ্যসেবা ও পরামর্শ নিতে তাদের বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. নূরুল ইসলাম বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে তিন থেকে চারশ’ রোগীকে বহিঃর্বিভাগে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। মাসে গড়ে ১২ থেকে ১৪ হাজার রোগী স্বাস্থ্যসেবা নিচ্ছে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে। আন্তঃবিভাগেও মাসে গড়ে সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার রোগী চিকিত্সাসেবা নিচ্ছেন। উপজেলা পর্যায়ে নতুন আসা চিকিত্সকদের প্রতিটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিপরীতে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই চিকিত্সকের পদশূন্য থাকায় ওইসব চিকিত্সককে দিয়ে এখানে রোগী সামলাতে হয়।
দিনাজপুর সিভিল সার্জন মো. আব্দুল কুদ্দুস বলেন, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে ২টিতে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র গড়ে উঠলেও অন্য ৫টিতে গড়ে ওঠেনি এখনও। বিদ্যমান ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে একজন করে চিকিত্সা কর্মকর্তা পদায়ন করা হলেও তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংযুক্ত থেকে সেখানেই চিকিত্সাসেবা দেন।
এক ডাক্তার নিরুদ্দেশ আড়াই বছর, কর্মস্থলে না থেকেও বেতন নিচ্ছেন ১১ ডাক্তার
গফরগাঁও (ময়মনসিংহ): গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল অফিসার ডা. আরিফুর রহমান ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে তিনদিনের সিএল (নৈমিত্তিক) ছুটি নিয়ে নিরুদ্দেশ হয়েছেন। তিনি যে কোথায় আছেন, তা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কেউ বলতে পারছে না। তবুও তার সরকারি চাকরিটি বহাল তবিয়তে আছে। একই দশা এই হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের।
সার্জারি কনসালটেন্ট ডা. আফরোজা ইসলাম ২০১৮ সালের ১ অক্টোবর তিনদিনের সিএল ছুটি নিয়ে এরপর থেকে হাসপাতালে অনুপস্থিত। আর কর্মস্থলে না থেকে সপ্তাহে দুই/একদিন হাসপাতালে নামমাত্র উপস্থিত হয়ে বেতন ভাতা তুলছেন কমপক্ষে ১১ জন ডাক্তার। যোগদান করেই বদলি হয়ে যাওয়ায় উপজেলায় ৩৪টি পদের মধ্যে ১৪ জন ডাক্তারের পদ শূন্য রয়েছে, ৪ জন ডাক্তার প্রেষনে অন্যত্র চাকরি করেছেন, দুইজন ডাক্তার দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত রয়েছেন। এভাবেই বছরের পর বছর অনিয়মের ষোলকলা পূর্ণ হয়ে বর্তমানে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবস্থান করে ১৪ জন ডাক্তারের মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ তিনজন ডাক্তারকে পাওয়া যায়। পরে অন্য ডাক্তাররা কর্মস্থলে এসেছেন কি না জানা যায়নি। ডাক্তারদের জন্য নির্ধারিত কামরাগুলো অধিকাংশই তালাবন্ধ ছিল। কয়েকটি কামরা খোলা থাকলেও কামরাগুলোতে কর্মরত ডাক্তার পাওয়া যায়নি। দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের শত শত রোগী হাসপাতালে ডাক্তার না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল অফিসার ডা. ফ্লোরা আফরোজ, ডা. তপন কুমার দাশ, ডা. আমেন খাতুন মিতা, ডা. নুসরাত জাহান, ডা. নিয়ামুল হাছান, অর্থোপেডিক্স এর কনসালটেন্ট ডা. মিজানুর রহমানসহ ১১ জন ডাক্তারই কর্মস্থলে অবস্থান না করে রাজধানী ঢাকায় অবস্থান করে ট্রেনে কর্মস্থলে আসা-যাওয়া করেন।
ডা. তপন কুমার দাশ মোবাইলে জানান, তিনি আগামী শনিবার আসবেন। অর্থোপেডিক্স এর কনসালটেন্ট ডা. মিজানুর রহমান সপ্তাহে দুইদিন রবিবার ও বুধবার এই হাসপাতালে রোগী দেখে থাকেন।
এ হাসপাতালে চিকিত্সা নিতে আসা উপজেলার মুখী গ্রামের হেলাল উদ্দিন জানান, ডাক্তার না থাকায় এই হাসপাতাল থেকে প্রায় দিনই চিকিত্সা না পেয়ে ফিরে যেতে হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলম আরা বেগম বলেন, অনুপস্থিতির কারণে এই হাসপাতালের বেশ কয়েকজন ডাক্তারকে শোকজ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
