নাটোর প্রতিনিধি
কৃষিজমিতে পুকুর কাটার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। কিন্তু তারপরও নাটোরে প্রভাবশালীরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবাধে কেটে চলেছে পুকুর। জেলায় গত তিন বছরে প্রায় ৬ হাজার পুকুর কাটা হয়েছে। এতে যেমন ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে তেমনি ঐ সব পুকুরের আশপাশের জমিও অনাবাদি হয়ে পড়ছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ কৃষক আর এসব দেখার যেন কেউ নেই। নাটোর জেলার অধিকাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। জেলার দুই দিকে রয়েছে হালতি ও চলনবিল। এছাড়াও রয়েছে বেশ কয়েকটি নদনদী। বিল এলাকার মানুষদের একমাত্র ভরসা হলো ধান, গম ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরেই তাদের এই সব ফসলি জমি কমতে শুরু করেছে। এক শ্রেণির অসাধু প্রভাবশালী ব্যক্তি সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দিনরাত জেলার বিভিন্ন স্থানে আবাদি জমিতে পুকুর কেটেই চলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, এভাবে পুকুর কাটার ফলে ধানের জমি কমতে শুরু করেছে। এভাবে ফসলি জমির মাঝখানে পুকুর কাটলে আশপাশের জমিগুলোতেও আবাদের সমস্যা হয়। ধানসহ অন্যান্য ফসল তারা আর করতে পারছেন না, শুধু অবৈধভাবে পুকুর কাটার ফলে। নলডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, করোনা ভাইরাসের এই দুঃসময়েও অবৈধভাবে পুকুর খনন চলেছে। তিনি নিজে জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও কোনো উপকার পাচ্ছেন না বলে জানান। তিনি মনে করেন, এখনই এগুলো বন্ধ করা না হলে আগামীতে খাদ্যশষ্য উত্পাদনে বিপদে পড়বে দেশের মানুষ। নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সুব্রত কুমার সরকার জানান, নাটোর জেলায় ২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ৫ হাজার ৮৯৮টি পুকুর খনন করা হয়েছে। এর ফলে ১ হাজার ৭৬৬ হেক্টর কৃষি জমি হারিয়েছে। কৃষিজমি নষ্ট করে পুকুর খননের ব্যাপারে সরকারি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এভাবে পুকুর খনন করা হলে খাদ্যশষ্য উত্পাদনে বিরূপ প্রভাব পড়বে। জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ জানান, অবৈধভাবে কৃষিজমি নষ্ট করে পুকুর খননের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছর শতাধিক অভিযানে ৭০টি মামলাও দায়ের হয়েছে। একই সঙ্গে ৭৪ জনকে জেল-জরিমানা করা হয়েছে।
