রংপুর-৬ আসন থেকে নির্বাচিত ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী একাদশ জাতীয় সংসদেরও স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন। এনিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সংসদের স্পিকার হলেন তিনি। গতকাল বুধবার বিকাল তিনটায় ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে একাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। বৈঠকের শুরুতে স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী বলেন, স্পিকার পদে আমার কাছে একটিমাত্র মনোনয়নপত্র রয়েছে। স্পিকার হিসেবে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর নাম প্রস্তাব করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আর প্রস্তাবটি সমর্থন করেছেন সংসদ সদস্য নূর-ই-আলম চৌধুরী (লিটন চৌধুরী)। শিরীন শারমিন চৌধুরী জানিয়েছেন, স্পিকার নির্বাচিত হলে দায়িত্ব পালনে তিনি সম্মত রয়েছেন।
এরপর ডেপুটি স্পিকার আহ্বান জানালে ওবায়দুল কাদের স্পিকার পদে শিরীন শারমিনের নাম প্রস্তাব করেন। প্রস্তাবটি সমর্থন করেন নবনিযুক্ত চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী। আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী প্রস্তাবটি ভোটে দেন ডেপুটি স্পিকার। কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে বিজয়ী ঘোষণা করেন ফজলে রাব্বী মিয়া। এরপর অধিবেশন ২০ মিনিটের জন্য বিরতি দেওয়া হয়। ওইসময় সংসদ ভবনেই রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ নতুন মেয়াদে স্পিকার হিসেবে শিরীন শারমিনকে শপথ পড়ান।
জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইটে শিরীন শারমিন চৌধুরীর জীবনী তুলে ধরা হয়েছে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৯ সালে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে এলএলবি (অনার্স) এবং ১৯৯০ সালে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি কমনওয়েলথ স্কলারশিপ নিয়ে ২০০০ সালে যুক্তরাজ্যের এসেক্স ইউনিভার্সিটি থেকে ‘রাইট টু লাইফ’ অর্থাত্, মানুষের জীবনের অধিকার, মানবাধিকার ও সাংবিধানিক আইন বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী।
একাদশ সংসদেরও স্পিকার হিসেবে শপথ নিয়ে অধিবেশন কক্ষে স্পিকারের আসনে আসেন শিরীন শারমিন। সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রথমে তিনি ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠান করেন। দশম সংসদের ডেপুটি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ফজলে রাব্বী মিয়া (গাইবান্ধা-৫) একাদশ সংসদেরও ডেপুটি স্পিকার হিসেবে সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হয়েছেন। এ পদে ফজলে রাব্বী মিয়ার নাম প্রস্তাব করেন হুইপ আতিউর রহমান আতিক। আর প্রস্তাবটি সমর্থন করেন হুইপ ইকবালুর রহিম। আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় তিনিও কণ্ঠভোটে নির্বাচিত হন। এরপর তাকেও রাষ্ট্রপতি শপথ পাঠ করান।
ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর স্বাগত বক্তব্যে শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট দেশের গণতন্ত্রকে সুসংহত করেছে। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন সংসদীয় গণতন্ত্রকে বিকশিত করে। স্পিকার আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ সমগ্র বিশ্বে উন্নয়নের বিস্ময়। গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রার মধ্য দিয়ে উন্নয়নের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদ কার্যকর ভূমিকা রাখবে এই হোক আমাদের সকলের সম্মিলিত কাজ।
