তাপপ্রবাহ বাড়ছে থাকবে এক সপ্তাহ

আপডেট : ১৭ মে ২০২১, ২৩:০৫

এই ফল পাকা জ্যৈষ্ঠের শুরুতেই তাতিয়ে উঠছে প্রকৃতি। যুগপত্ অস্বস্তিকর তাপপ্রবাহ, ভ্যাপসা গরম আর কিয়দাংশে ঝড়বৃষ্টিকবলিত এখন দেশ। পাঁচ বিভাগে ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনার মধ্যে দেশের ১০টি অঞ্চল ও দুটি বিভাগের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তাপপ্রবাহ। রবিবার থেকে ব্যারোমিটারের পারদ ফের ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ সতর্কবার্তা বলছে, দাবদাহ থেকে এখনই নিস্তার মিলবে না। আরো ৭-৯ দিন ক্রমাগত তাপমাত্রা বাড়তে পারে। গতকাল সোমবার সকাল থেকেও বয়ে যাচ্ছে গরম হাওয়া। হাঁসফাঁস করছে প্রাণীকুল। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গতকাল ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অথচ রবিবার ছিল ৩৬.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়াবিদ রুহুল কুদ্দুস বলেন, ২৬ মে পর্যন্ত দেশে তাপপ্রবাহ থাকবে। মাঝে সামান্য বৃষ্টি হতে পারে। এদিকে গতকাল দুপুরে ঢাকা বিভাগের মধ্যে ফরিদপুরে সর্বোচ্চ ৪০ দশমিক ৪ ডিগ্রি, মাদারীপুরে ৩৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি ও গোপালগঞ্জে ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল রাজশাহী (সর্বোচ্চ ৪২.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস), খুলনা (সর্বোচ্চ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ও বরিশালে (সর্বোচ্চ ৩৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস)।

আবহাওয়াবিদ মো. আবদুর রহমান খান বলেন, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তত্সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে যার বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত আছে। এ কারণে ঢাকা, টাঙ্গাইল, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাঙ্গামাটি, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, রাজশাহী, পাবনা অঞ্চল এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তবে ইতিবাচক দিক হচ্ছে, বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ কম, ৫৮ শতাংশ। এ কারণে ঘাম দিচ্ছে না। আবহাওয়া দপ্তর জানায়, আগামী এক সপ্তাহে এই পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বরং তাপমাত্রা আরো বৃদ্ধি পেতে পারে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, কুমিল্লা অঞ্চলসহ সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া দেশের অন্যান্য স্থানের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।

আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান বলছেন, এপ্রিল-মে-জুন মাস বাংলাদেশের উষ্ণতম সময়। বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়ে তাপমাত্রা বেশি থাকে। কখনো কখনো তাপপ্রবাহ চলে। এই সময়ে তুলনামূলক বৃষ্টিপাতও কম হয়ে থাকে। এই বাস্তবতার কারণেই এপ্রিল মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৯ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছিল আর চার দফা তাপপ্রবাহ বয়ে যায়।

চলতি বছরের শুরু থেকেই বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে কম হচ্ছে। এপ্রিলেও সারা দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৯ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত তথ্যে বিষয়টি উঠে এসেছে। বৃষ্টি কম হওয়ার কারণ হিসেবে সেখানে বলা হয়েছে, পশ্চিমা ও পুবালি লঘুচাপের প্রভাব কম থাকায় স্বাভাবিক অপেক্ষা কম বৃষ্টিপাত হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ মো. শাহিনুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক বছরের মধ্যে এ বছর বৃষ্টিপাত একটু কম। মার্চ, এপ্রিল, মে মাসে পশ্চিমা ও পুবালি লঘুচাপের প্রভাব কম থাকায় স্বাভাবিক অপেক্ষা কম বৃষ্টিপাত হয়েছে।