গাজায় ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রাণের খোঁজে উদ্ধারকর্মীরা

আপডেট : ১৭ মে ২০২১, ২৩:১৬

ইসরাইলের এক সপ্তাহের আগ্রাসি হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গাজা উপত্যকা। ৫৮ শিশুসহ দুই শতাধিক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে এখানে। ছোট্ট শিশুরাও রেহাই পাচ্ছে না ইসরাইলের বিমান হামলা থেকে। তাই তো শিশু সন্তানকে নিয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে হচ্ছে পরিবারকে। এক হিসাবে দেখা গেছে, প্রতি ঘণ্টায় গাজায় তিন শিশু আহত হচ্ছে। আহতদের চিকিত্সায়হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। এদিকে আলজাজিরা ও এপির কার্যালয় গুঁড়িয়ে দেওয়ায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের তদন্তের দাবি জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন। খবর ডেইলি মেইল ও আলজাজিরার

রবিবার দিবাগত সারা রাত গাজায় বিমান থেকে শতাধিক বোমা হামলা চালায় ইসরাইল। এতে ফিলিস্তিনের এক ইসলামিক নেতা হুসসাম আবু হারবিদ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরাইল। এ নিয়ে গত এক সপ্তাহে দুই শতাধিক ফিলিস্তিন নিহত হয়েছেন যাদের মধ্যে ৫৮ শিশু ও ৩৪ নারী রয়েছেন। আর হামাসের রকেট হামলায় এক শিশুসহ ইসরাইলের ১০ জন নিহত হয়েছেন। ১৩ শতাধিক ফিলিস্তিনি এবং তিন শতাধিক ইসরাইলি আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের ভেতর উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। সেখানে জীবিত কাউকে পাওয়া যায় কি না, তাদের খোঁজে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। বাড়ির ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে ছোট্ট শিশুদের। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার ৫৪ ইসরাইলি বিমান থেকে ২০ মিনিটে গাজার ৩৫টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়।

হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো

গাজায় অবস্থান করা সাংবাদিক ইউমনা আল সাঈদ জানান, হাসপাতালগুলোতে আহতদের ভিড় বাড়ছে। হাসপাতালের বারান্দা থেকে শুরু করে প্রশাসনের অফিসেও আহতদের চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। তারপরও সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। বিদ্যুত্ প্ল্যান্টে বোমা হামলার কারণে গাজার অধিকাংশ স্থানে বিদ্যুত্ নেই। হাসপাতালগুলোতে বিদ্যুতের সংকট দেখা দিয়েছে। তিন ঘণ্টা পরপর বিদ্যুত্ অল্প সময়ের জন্য আসছে। ফলে চিকিত্সাসেবায় সংকট আরো বেড়েছে। এমনকি প্রয়োজনীয় চিকিত্সা সামগ্রীরও সংকট বাড়ছে। গাজায় দুই জন খ্যাতিমান চিকিত্সক ইসরাইলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। ফলে ঐ হাসপাতালগুলোতে চিকিত্সকরা শোকাহত হয়ে পড়েছেন। এতেও চিকিত্সা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

যুদ্ধাপরাধ তদন্তের আহ্বান

বোমা হামলায় কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বার্তা সংস্থা এপির কার্যালয় ধ্বংস হওয়ায় ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের তদন্তের দাবি জানিয়েছে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। ইচ্ছাকৃতভাবেই বোমা হামলা চালানো হয়েছে বলে সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে।