তুচ্ছ ঘটনায় খুন
কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার দুর্গাপুর এলাকায় তুচ্ছ ঘটনায় মনির হোসেন (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করে পরিচয় গোপন করে হাসপাতালে লাশ ফেলে গেছে নির্যাতনকারীরা। পরে পুলিশ ‘বেওয়ারিশ’ হিসেবে লাশ দাফন করে। ঘটনার চার দিন পর স্বজনেরা তার খোঁজে থানায় গিয়ে জানতে পারে ‘বেওয়ারিশ’ হিসেবে দাফন করা লাশটি মনিরের। পুলিশের কাছে থাকা লাশের ছবি দেখে তার পরিচয় নিশ্চিত করে স্বজনেরা। তিন মেয়ে সন্তানের জনক নিহত মনির। আদর্শ সদর উপজেলার বলরামপুর এলাকার মৃত আবদুল জব্বারের ছেলে। একই উপজেলার দুর্গাপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে ফেরি করে গৃহস্থালি মালামাল বিক্রি করতেন মনির। এ ঘটনায় রবিবার দিবাগত রাতে নিহতের স্ত্রী সালমা বেগম বাদী হয়ে আট জনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হচ্ছে :একই উপজেলার ঘোড়ামারা কৃষ্ণনগর গ্রামের তৌহিদ, মনির, এরশাদ, আজাদ, রাশেদ মিয়া, জাহিদ, আমির আলী ও আরিফ হোসেন। সোমবার দুপুর পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
মামলায় অভিযোগ করা করা হয়, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে মনির তার একটি নষ্ট মোবাইল মেরামত করার জন্য দুর্গাপুর এলাকার তৌহিদের নিকট দেন। কিন্তু মোবাইল সেটটি ফেরত না পেয়ে ১১ মে সন্ধ্যায় মনির মোবাইল সেটের জন্য দোকানে গেলে তৌহিদ তাকে মারধর করে। পরে মনিরকে মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে তৌহিদের অন্য সহযোগী এরশাদ, আজাদ, রাশেদ মিয়া ও জাহিদসহ অজ্ঞাতনামা আরো কয়েক জন তাকে মারধর করে। ১৩ মে সকালে পুনরায় একই ব্যক্তিরা তাকে বাসার অদূরে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পেয়ে মারধর করে রাস্তা থেকে উঠিয়ে একই উপজেলার ঘোড়ামারা কৃষ্ণনগর গ্রামে তৌহিদের বাড়িতে নিয়ে মারধর করে। এতে সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় জরুরি বিভাগের রেজিস্টারে মনিরের নাম ও পরিচয় ‘অজ্ঞাত’ হিসেবে লেখা হয়। রাতে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। পর দিন (১৪ মে) হাসপাতাল থেকে কোতোয়ালি মডেল থানায় খবর দেওয়ার পর পুলিশ ময়নাতদন্তের পর মরদেহ ‘বেওয়ারিশ’ হিসেবে দাফনের জন্য আঞ্জুমানে হস্তান্তর করে। ১৫ মে নগরীর টিক্কারচর কবরস্থানে বেওয়ারিশ হিসেবে মনিরের দাফন সম্পন্ন হয়।
নিহত মনিরের শ্যালক সালাউদ্দিন জানান, মনিরকে মারধর করে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এ নিয়ে আমাদের নিশ্চিত কোনো ধারণা ছিল না। তাই হাসপাতাল, কারাগার এবং সর্বশেষ থানায় খোঁজ নেই। থানায় গিয়ে ছবি দেখে নিশ্চিত হই বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা ব্যক্তিই মনির। নিহত মনিরের স্ত্রী সালমা বেগম জানান, মামলায় অভিযুক্ত এরশাদ ও তৌহিদ তাদের অপর সহযোগীদের নিয়ে আমার স্বামীকে হত্যা করেছে। তারাই তাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত জেনে পালিয়ে যায়। ঘটনার শুরুতে এলাকার লোকজন প্রভাবশালী এসব আসামিদের বিরুদ্ধে মুখ না খুললেও মনিরের মৃত্যুর পর এখন তারা মনিরের ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের বর্ণনা দিচ্ছে। তিনি বলেন, আমার স্বামীকে তারা হাতে-পায়ে লোহার শিকল দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রড, লাঠি, বেলচা, বাঁশ, চামড়ার বেল্ট দিয়ে পিটিয়ে শরীরে রক্তাক্ত জখম করেছে। পা ভেঙে ফেলেছে। এ সময় পানি চাইলেও তাকে দেওয়া হয়নি। তিনি বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আনোয়ারুল হক জানান, ‘হাসপাতাল থেকে অজ্ঞাত লাশ হিসেবে ঐ ব্যক্তির মরদেহ দাফন করার আগে বিধি মোতাবেক ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। এখন তার পরিবারের লোকজন এসে ছবি দেখে তাকে শনাক্ত করেছে। নিহতের স্ত্রী আট জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের বাড়ি থেকে কিছু আলামত জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত রয়েছে এখন সবাই এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। তাদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে।’
