চীনের টিকা প্রয়োগ শুরু আগামী সপ্তাহে :স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট : ১৮ মে ২০২১, ০০:৪৫

চীনের সিনোফার্ম থেকে আসা ৫ লাখ ডোজ টিকা আগামী সপ্তাহ থেকে প্রয়োগ শুরু হবে। করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সম্মুখসারির যোদ্ধারা অগ্রাধিকার পাবেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আগামী ২৫ অথবা ২৬ তারিখ থেকে এই টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করতে পারব। সেই পরিকল্পনা মোটামুটি দাঁড় করানো হয়েছে।’

দেশে আরো টিকা আসার বিষয়ে অগ্রগতির খবর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, টিকা নিয়ে ভালো খবর খুব শিগিগরই আসবে। আমরা টিকা নিয়ে অনেক দেশের সঙ্গে কথা বলছি। অনেক জায়গায় ভালো অগ্রগতি হয়েছে। ফাইনাল হলে আপনারা জানতে পারবেন। কিন্তু ভালো খবর হয়তো সামনে আপনাদের আমরা দিতে পারব।

মহামারির প্রথম ঢেউ সামাল দেওয়ার মধ্যেই গত বছরের নভেম্বরে ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি ৩ কোটি ডোজ করোনা ভাইরাসের টিকা কিনতে চুক্তি করে বাংলাদেশ। দুই চালানে সিরাম ইনস্টিটিউট ৭০ লাখ ডোজ টিকা পাঠানোর পর ভারত সরকার রপ্তানি বন্ধ করে দিলে বাংলাদেশ বেকায়দায় পড়ে। এপ্রিলে সরকার অন্য উত্স থেকে টিকা পাওয়ার চেষ্টা শুরু করে। এর অংশ হিসেবে এপ্রিলের শেষে এবং মে মাসের শুরুতে রাশিয়ার স্পুিনক-ভি এবং চীনের সিনোফার্মের টিকা জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দেয় সরকার। চীনের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে দেওয়া সিনোফার্মের তৈরি ৫ লাখ ডোজ করোনা ভাইরাসের টিকা ১২ মে ঢাকায় পৌঁছায়। পরদিন জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মহামারি সামাল দিতে বিভিন্ন উত্স থেকে আরো ১ কোটি ডোজ টিকা কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই টিকা শিগিগরই দেশে আসতে শুরু করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের হাতে কয়েক কোটি অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা আছে, যা তারা প্রয়োগ করছে না। সেখান থেকে একটি অংশ ইতিমধ্যে বাংলাদেশ চেয়েছে। পাশাপাশি টিকার আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফরম কোভ্যাক্সের কাছ থেকেও টিকা পাওয়ার অপেক্ষায় আছে বাংলাদেশ। রাশিয়া ও চীন রাজি হলে তাদের উদ্ভাবিত করোনা ভাইরাসের টিকা বাংলাদেশেও যাতে উত্পাদন করা যায়, সেজন্য ইতিমধ্যে মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের কাজ সেরে রেখেছে সরকার। তবে দেশে টিকা উত্পাদনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে আরও সময় লাগবে বলে সেদিন জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সোমবার এ বিষয়ে বলেন, এখনো দেশীয় কোনো প্রতিষ্ঠানকে চীনের সিনোফার্মের টিকা তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এখন আমাদের চেষ্টা থাকবে টিকা ক্রয় করে মানুষকে দেওয়ার। এটাই সবচেয়ে তাড়াতাড়ি হবে। টিকা তৈরি করা সময়ের ব্যাপার। আমি মনে করি খুব তড়িত্ গতিতে টিকা তৈরি করা সম্ভব নয়, যদি এক্সিস্টিং কোনো ফ্যাসিলিটিজ থাকে; আর ফ্যাসিলিটিজ না থাকলে আরো বেশি সময় লাগবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের সময় মতো সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের ফলেই করোনায় এখনো বাংলাদেশ অনেকটাই নিরাপদ রয়েছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে দিনে গড়ে প্রায় ৪ হাজার মানুষ করোনায় মারা যাচ্ছে এবং দৈনিক ৩-৪ লাখ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। অথচ ভারতের এত নিকটবর্তী দেশ হয়েও আমাদের দেশে বর্তমানে সংক্রমণ দিনে ৩০০ জনের কাছাকাছি নেমে গেছে। তিনি বলেন, ভারতীয় নতুন ভ্যারিয়েন্ট দেশে চলে এলেও তাদের সঠিকভাবে কন্ট্রাক্ট ট্রেসিং করার ফলে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টটি দেশে এখনো ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। তবে আগামী কিছুদিন আমাদের আরো বেশি সতর্ক থাকতে হবে। ঈদ শেষে মানুষ যেন আগামী কিছুদিন ঢাকায় ফিরতে না পারে সে ব্যাপারে সরকারকে সচেষ্ট থাকতে হবে।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় দেড় মাস ধরে বন্ধ রয়েছে দূরপাল্লার বাস, ট্রেন ও লঞ্চ চলাচল। বাস মালিক-শ্রমিকরা চালুর দাবি তুললেও মহামারী পরিস্থিতি বিবেচনায় তার আরো ‘কিছু দিন’ বন্ধ রাখার পক্ষপাতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। সংক্রমণ আরো কমিয়ে আনার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এখন বাস, ট্রেন, লঞ্চ বন্ধ আছে। আমরা প্রস্তাব করব এটাকে বন্ধ রাখতে।’ স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ায় বাংলাদেশ কিছুটা হলেও নিরাপদে আছে। বর্ডার এখন বন্ধ আছে। আগামীতেও বন্ধ থাকবে, এটা আমাদের সুপারিশ থাকবে। যে পর্যন্ত ভারতের অবস্থা মোটামুটি স্বাভাবিক না হয়।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভায় স্বাস্থ্যসেবা সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, স্বাস্থ্যশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলী নূর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। চীন থেকে পাওয়া উপহারের টিকা বিভিন্ন মেডিক্যাল, নার্সিং শিক্ষার্থী এবং মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টদের দেওয়া হবে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ইতিমধ্যে জানিয়েছে।