মো. আবদুল গাফফার সুমন, মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা) সংবাদদাতা
মনোহরগঞ্জ-কুমিল্লা রুটে বন্ধ বাস সার্ভিস ১৪ বছরেও চালু হয়নি। এ পথে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় উপজেলা সদর থেকে জেলা শহর কুমিল্লা যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এ জনপদের ১১টি ইউনিয়নের বাসিন্দারা। তাছাড়া রাজধানী ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যেতে আরো ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাদের। স্থানীয় বাসিন্দারা জরুরি ভিত্তিতে বাস সার্ভিস চালুর দাবি জানিয়েছে।
জানা যায়, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মনোহরগঞ্জ-কুমিল্লা রুটে যাত্রা শুরু করে শাপলা বাস সার্ভিস। এতে মনোহরগঞ্জ থেকে কুমিল্লা যাতায়াত সহজ হয়। বাস সার্ভিসটি চালুর পর বাড়তে থাকে বাসের সংখ্যা। এক পর্যায়ে জিপি উঠানোসহ নানা জটিলতা চালু হওয়ায় ছয় মাস পর বন্ধ হয়ে যায় এর কার্যক্রম। বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে মনোহরগঞ্জ থেকে কুমিল্লা যাতায়াতে যাত্রীরা পড়েন চরম বিপাকে। কিন্তু এই জটিলতা ১৪ বছরেও সমাধান হয়নি। তত্কালীন সময়ে আধাপাকা-কাঁচা রাস্তা দিয়ে এর যাত্রা শুরু হলেও সময়ের ব্যবধানে এ এলাকার অধিকাংশ রাস্তাই এখন পাকা। ২০০৫ সালে এ উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে উপজেলা গঠনের প্রায় দেড় যুগ পার হলেও এ উপজেলার বাসিন্দারা নিজ এলাকা থেকে ঢাকা যাওয়ার সরাসরি কোনো বাহন নেই।
উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও লক্ষ্মণপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম শেখ কামাল জানান, বাস চলাকালীন কুমিল্লা যাতায়াতে খরচ হতো ১০০ টাকা। এখন ভেঙে ভেঙে যেতে দিগুণেরও বেশি খরচ হয়। কুমিল্লায় যাওয়া-আসায় অন্ততঃ সাত-আট বার গাড়ি পরিবর্তন করতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটোই অপচয় হচ্ছে। তবে সবচেয়ে দুর্ভোগে পড়েন জেলা শহর ও রাজধানীতে চিকিত্সাসেবা নিতে যাওয়া রোগীরা।
স্থানীয় বাসিন্দা তাজুল ইসলাম চৌধুরী জানান, বর্তমান সরকারের আমলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এ এলাকার অধিকাংশ রাস্তাই পাকাকরণ হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হলেও এ উপজেলা থেকে জেলা শহর ও রাজধানীতে যাতায়াতে কোনো বাস সার্ভিস নেই। ফলে যোগাযোগের দিক থেকে এক ধাপ পিছিয়েই থাকছে এ এলাকার মানুষ। তিনি বন্ধ বাস সার্ভিসটি পুনরায় চালু ও মনোহরগঞ্জ থেকে রাজধানীর সঙ্গে সরাসরি বাস সার্ভিস চালুর বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল রানা বিষয়টি দুঃখজনক উল্লেখ করে জানান, বর্তমানে এ উপজেলায় যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত ভালো। বাস সার্ভিস চালু হলে উপকৃত হবে এ জনপদের মানুষ। তিনি বাস সার্ভিস চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার কথা জানান।
