এক দিনে ৫০ চিকিত্সকের মৃত্যু হয়েছে :আইএমএ
করোনা ভাইরাস মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত ভারতে ফের দৈনিক মৃত্যু নতুন উচ্চতায় উঠছে, তবে শনাক্ত নতুন রোগীর সংখ্যা কমলেও মোট সংক্রমণ আড়াই কোটি ছাড়িয়েছে। এদিকে করোনায় দেশটিতে এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার চিকিত্সকের মৃত্যু হয়েছে। খবর রয়টার্স ও এনডিটিভির।
ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যে দেখা গেছে, মঙ্গলবার সকালের আগের ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ২ লাখ ৬৩ হাজার ৫৩৩ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে আর একই সময় মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ৩২৯ জনের। ভারতে কোভিড-১৯ মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে এক দিনে এটিই সর্বোচ্চ মৃত্যু। এর আগে চলতি মাসের ১২ মে দেশটিতে ৪ হাজার ২০৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল, এক দিন আগ পর্যন্ত সেটিই ছিল দেশটিতে কোভিড-১৯-এ এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা। এই নিয়ে ভারতে করোনা ভাইরাস মহামারিতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ২ লাখ ৭৮ হাজার ৭১৯ জন। চলতি মহামারিতে মৃত্যুর সংখ্যায় শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিল ভারতের ওপরে আছে। যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যু হয়েছে ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৩৫৯ জনের আর ব্রাজিলে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৫৩৭ জনের।
মৃত্যুর সংখ্যার দৈনিক রেকর্ড হলেও ভারতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ৩ লাখের কম রোগী শনাক্ত হয়েছে। দেশটিতে ২১ এপ্রিল থেকে ১৬ মে পর্যন্ত ২৫ দিন ধরে দৈনিক ৩ লাখের বেশি কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হওয়ার পর সোমবার প্রথম সংখ্যাটি ৩ লাখের নিচে নামে। সেই ধারাবাহিকতার দ্বিতীয় দিনে শনাক্ত রোগী আরো কমেছে। নতুন রোগীদের নিয়ে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ কোটি ৫২ লাখ ২৮ হাজার ৯৯৬ জনে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ কোভিড-১৯ রোগী নিয়ে শুধু যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সামনে আছে।
এদিকে ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (আইএমএ) তথ্যে দেখা গেছে, করোনা ভাইরাস সংক্রমণের প্রাণঘাতী দ্বিতীয় ঢেউয়ে ভারতে ২৪৪ জন চিকিত্সকের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে রবিবার ৫০ জনের মৃত্যু নথিবদ্ধ হয়েছে বলে মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনটির তথ্যের বরাতে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম। কোভিড-১৯-এ ভারতে এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার চিকিত্সকের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে গত বছর সংক্রমণের প্রথম ঢেউয়ে ৭৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল আর চলতি বছর দ্বিতীয় ঢেউয়ে আরো ২৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার আইএমএর সাধারণ সম্পাদক ডা. জায়েশ লেলে এনডিটিভিকে বলেছেন, ‘গতকাল ভারত জুড়ে ৫০ জন চিকিত্সক মারা গেছেন আর এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার পর থেকে ২৪৪ জন, যা খুবই দুর্ভাগ্যজনক।’ এনডিটিভি জানিয়েছে, আইএমএ কোভিড-১৯ এ ভারতে প্রায় ১ হাজার চিকিত্সকের মৃত্যুর কথা জানালেও প্রকৃত সংখ্যা আরো অনেক বেশি হতে পারে।
