মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি নারায়ণ চন্দ্র ধর

আপডেট : ১৮ মে ২০২১, ২১:৪৭

খুলনা জেলার তেরখাদা উপজেলাধীন ভুজনীয়া গ্রামের নারায়ণ চন্দ্র ধর ১৯৭১ সালের মুক্তিসৈনিক, আমার বাবা। মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার কষ্ট নিয়ে ১৯৮৭ সালে পরলোকগমন করেন তিনি। বাবার নাম মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্তি ও গেজেটভুক্ত করার জন্য তাঁর স্বাধীনতার সনদ, অস্ত্র জমার সার্টিফিকেট, সহযোদ্ধাদের প্রত্যয়নপত্র ও অন্যান্য কাগজপত্রসহ জেলা কমান্ডার ও থানা কমান্ডারসহ বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরছি। নারায়ণ চন্দ্র ধর ৯ নম্বর সেক্টরে থেকে স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর সনদ নম্বর ৯৬৩২৭। তিনি ১৯৭২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ৩০৩ রাইফেল ফুলতলা মিলিশিয়া ক্যাম্পে জমা দেন। ১৯৭২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি উত্তর খুলনার মুক্তিবাহিনী প্রধান বোরহান উদ্দিন আহম্মেদ, ২০০৮ সালে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার সরদার মাহাবুবার রহমান এবং ২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি উত্তর খুলনা মুক্তিবাহিনীর তেরখাদার যুদ্ধকালীন কমান্ডার মো. নুরুল হক মোল্লা মুক্তিযোদ্ধার প্রত্যয়নপত্র প্রদান করেন। নারায়ণ চন্দ্র ধর পাতলা ক্যাম্পে ২১ দিন প্রশিক্ষণ নেন এবং তাঁর নেতৃত্বে তেরখাদা, হারিখালি এবং বেলফুলিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধ হয়। নারায়ণ চন্দ্র ধরের এলাকার তালিকায় ক্রমিক নম্বর ১০০ এবং জেলার তালিকায় ক্রমিক নম্বর ২৫৭। তাঁকে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাননীয় শ্রম-প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপি, খুলনা সিটি করপোরেশনের মাননীয় মেয়র আলহাজ তালুকদার আবদুল খালেক এবং সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মোল্লা জালাল উদ্দিন এমপি সুপারিশ করেন। আমার বাবার মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার সবরকম সনদ ও কাগজপত্র আছে। অথচ মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টির প্রতি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং আশু প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিনীত আবেদন জানাচ্ছি।

বিষ্ণু পদ ধর

ভুজনীয়া, তেরখাদা, খুলনা