বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেছেন, চুরি হওয়া রিজার্ভের অর্থ ফেরত আনতে যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট নিউইয়র্কে মামলা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় অনুযায়ী ৩০ ডিসেম্বর (সে হিসাবে গতকাল বুধবার রাত) মামলা হওয়ার কথা। তিনি বলেন, এ রিজার্ভ চুরির ঘটনায় যারা লাভবান পক্ষ তাদের বিরুদ্ধেই মামলা হবে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ হলো ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক, সুইফট ও বাংলাদেশ ব্যাংক। ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের কারো বিরুদ্ধে মামলা হবে না। আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি দল ফিরে আসলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানান গভর্নর। গতকাল বুধবার সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) মুদ্রানীতি ঘোষণা অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভে সংরক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির বিষয়ে মামলা করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এখন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছে। গত রবিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে দেশত্যাগ করে এ প্রতিনিধি দল। মামলা করতে এত সময় লাগলো কেন এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রধান আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান গতকাল বলেন, সব টাকা উদ্ধারই আমাদের অন্যতম উদ্দেশ্য। এ ধরনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক আইন মোতাবেক মামলার করতে সর্বোচ্চ তিন বছর সময় পাওয়া যায়। এখন মামলা রূপরেখা চূড়ান্ত হয়েছে। নানা দিক চুলচেরা বিশ্লেষণ করে এগিয়ে যেতে হয়েছে। তাই কোনো ধরনের তাড়াহুড়া করা হয়নি ।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রেও ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। এর মধ্যে ২ কোটি ডলার চলে যায় শ্রীলঙ্কা ও ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চলে যায় ফিলিপাইনে। এরই মধ্যে মাত্র ১৪ দশমিক ৫৪ মিলিয়ন বা এক কোটি ৪৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার ফেরত পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে ঘটনার প্রায় তিন বছর পার হয়ে গেলেও বাকি টাকা এখনো উদ্ধার হয়নি।
