করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রকল্পগুলো আগে বাস্তবায়নের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ১৮ মে ২০২১, ২৩:০৭

করোনার প্রভাবে যেসব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়েছে সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশেষ করে যেসব প্রকল্প সাধারণ মানুষের সঙ্গে বেশি সম্পৃক্ত সেসব প্রকল্প বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দিতে বলেছেন তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় আগামী ২০২১-২০২২ অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৯৩ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয় সংবলিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা করপোরেশনের প্রায় ১১ হাজার ৪৬৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ও এনইসি চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা গণভবন প্রান্ত থেকে ভিডিও কনফারেন্স যুক্ত হয়ে সভায় সভাপতিত্ব করেন। শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলনকক্ষ ও সচিবালয়স্থ মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরে বলেন, প্রধানমন্ত্রী গবেষণায় আলাদা বরাদ্দ দিতে বলেছেন। স্বাস্থ্য, কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে গবেষণা করতে হবে। এর জন্য সুনির্দিষ্ট করে বরাদ্দ দিতে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সভায় জানানো হয়েছে, এডিপিতে দারিদ্র্য বিমোচন, জিডিপির প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিতকরণ, কর্মসংস্থান সৃজন ও মানবসম্পদ উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট প্রকল্পসমূহকে অগ্রাধিকার বিবেচনায় রেখে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ প্রদানের ক্ষেত্রে কৃষি, শিল্প ও সেবা খাত প্রবৃদ্ধি, বিদ্যুত্ উত্পাদন, আইসিটি শিক্ষার উন্নয়ন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ক্ষয়ক্ষতি পুনর্বাসন সংক্রান্ত প্রকল্প, সুষম উন্নয়নের লক্ষ্যে এলাকাভিত্তিক প্রকল্প ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে (পিপিপি) বাস্তবায়িত নতুন প্রকল্পসমূহকে অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়েছে।

অগ্রাধিকার দেওয়ার পরেও স্বাস্থ্য খাতে এডিপি বাস্তবায়নে ধীর গতি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে পরিকল্পনামন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, কোভিড-১৯ শুরুর দিকে কিছুটা অগোছালো অবস্থা ছিল। তবে সার্বিক বিচারে স্বাস্থ্য খাত ভালো করছে বলে দাবি করেন মন্ত্রী।

নতুন এডিপি নিয়ে মন্ত্রী জানান, অনুমোদিত মূল বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি ১৪ লাখ টাকার মধ্যে অভ্যন্তরীণ উত্স (জিওবি) হতে অর্থায়ন ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৭ হাজার ২৯৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক উত্স হতে অর্থায়ন ৮৮ হাজার ২৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এডিপিতে প্রকল্প সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫১৫টিতে।

সর্বোচ্চ বরাদ্দ রূপপুর পারমাণবিক

বিদ্যুত্ প্রকল্প বাস্তবায়নে

মেগা এই প্রকল্পটিতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৮ হাজার ৪২৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এরপর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ প্রল্পটি। এতে বরাদ্দ রয়েছে ৬১৬২ কোটি টাকা। এরপর বরাদ্দের শীর্ষে থাকা প্রকল্পগুলোর মধ্যে চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) প্রকল্পে ৫০৫৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৬) প্রকল্পে ৪৮০০ কোটি টাকা, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ (১ম সংশোধিত) প্রকল্পে ৩৮২৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ৩৫৮০ কোটি টাকা, পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্পে ৩৫০০ কোটি টাকা, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পে ৩২২৭ কোটি ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

খাতভিত্তিক সর্বোচ্চ বরাদ্দ

খাতভিত্তিক বরাদ্দ বিশ্লেষণ করে দেখা যায় নতুন এডিপিতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত, ৬১ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা। যা মোট বরাদ্দের ২৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ বিদ্যুত্ ও জ্বালানি খাতে ৪৫ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা (২০.৩৬%)। খাতভিত্তিক শীর্ষ বরাদ্দের মধ্যে এর পরেই রয়েছে গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধাবলি খাতে ২৩ হাজার ৭৪৭ কোটি টাকা (১০.৫৪%), শিক্ষা খাতে ২৩ হাজার ১৭৮ কোটি টাকা (১০.২৯%)। পঞ্চম শীর্ষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য খাতে, ১৭ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা (৭.৬৮%)।