ভ্যাট গোয়েন্দার মামলা

সাড়ে ৪ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে লুবনান

আপডেট : ১৯ মে ২০২১, ০০:৩৮

ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তর পোশাক বিপণনকারী লুবনান ট্রেড কনসোর্টিয়াম লিমিটেডের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকি উদ্ঘাটন করেছে। ভ্যাট ফাঁকির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ভ্যাট আইনে গতকাল মামলা দায়ের করেছে ভ্যাট গোয়েন্দা। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ভ্যাট গোয়েন্দা ঐ প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায়।

একজন গ্রাহকের সুনির্দিষ্ট ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ থাকায় ভ্যাট গোয়েন্দার সহকারী পরিচালক মো. মাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি গোয়েন্দা দল রাজধানীর বাড্ডায় প্রতিষ্ঠানটির কারখানা এবং অফিসে অভিযান পরিচালনা করে। লুবনান  ট্রেড কনসোর্টিয়াম লিমিটেডের অফিস রাজধানীর গুলশান-বাড্ডা লিংক রোডে। প্রতিষ্ঠানটির মূলত তিনটি ব্র্যান্ড। রিচম্যান আ্যাাপারেলস, ইনফিনিটি  মেগা মল ও লুবনান এথনিক উইয়ার। রাজধানীর  বড় বড় শপিংমলসহ সারা দেশে ১০৮টি বিপণিকেন্দ্র রয়েছে।

সরেজমিনে একই সঙ্গে অন্যান্য নির্ভরযোগ্য দপ্তর থেকে প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট-সংক্রান্ত দলিলাদি সংগ্রহ করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ভ্যাট গোয়েন্দা দল প্রতিষ্ঠানটির মূসক ফাঁকির প্রমাণ পেয়েছে।

ভ্যাট  গোয়েন্দার তথ্য অনুসারে তদন্ত  মেয়াদে বিক্রয়মূল্যের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটি ৩৯ কোটি ৮২ লাখ ৫৮ হাজার ৫৬৭ টাকা ভ্যাট পরিশোধ করেছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির প্রদেয় ভ্যাটের পরিমাণ ছিল ৪১ কোটি ৫৮ লাখ ১৫ হাজার ৯৯৫ টাকা। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির অপরিশোধিত ভ্যাট বাবদ ১ কোটি ৭৫ লাখ ৫৭ হাজার ৪২৮ টাকার ফাঁকি উদ্ঘাটিত হয়। বিক্রয়মূল্যের বিপরীতে প্রযোজ্য এ ফাঁকিকৃত ভ্যাটের ওপর ভ্যাট আইন অনুসারে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৯৫ লাখ ২০ হাজার ৯২৯ টাকা সুদ টাকা হিসাবে আদায়যোগ্য হবে। অন্যদিকে, তদন্ত মেয়াদে প্রতিষ্ঠানটির স্থান ও স্থাপনার  ভাড়ার  বিপরীতে ৪ কোটি ৪০ লাখ ৫১ হাজার ৩৬৮ টাকা পরিশোধ করেছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির প্রদেয় ভ্যাটের পরিমাণ ছিল ৪ কোটি ৪১ লাখ ৬৫ হাজার ৮০ টাকা। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির অপরিশোধিত ভ্যাট বাবদ ১ লাখ ১৩ হাজার ৭১২ টাকার ফাঁকি উদ্ঘাটন করা হয়। এই ফাঁকির ওপরও ভ্যাট আইন অনুসারে মাস ভিত্তিক গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৭৫ হাজার ১৮ টাকা সুদ হিসেবে প্রযোজ্য হবে।

এছাড়া, তদন্ত  মেয়াদে সিএ ফার্মের রিপোর্ট মোতাবেক উেস ভ্যাট ৩ কোটি ২১ লাখ ৩৭ হাজার ৯৮৫ টাকা পরিশোধ করেছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির প্রদেয় ভ্যাটের পরিমাণ ছিল ৪ কোটি ৯৪ লাখ ১৪ হাজার ৭০০ টাকা। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির অপরিশোধিত ভ্যাট বাবদ এক কোটি ৭২ লাখ ৭৬ হাজার ৭১৫ টাকার ফাঁকি উদ্ঘাটিত হয়। উেস কর্তনের ওপর প্রযোজ্য এই ফাঁকিকৃত ভ্যাটের ওপর ভ্যাট আইন অনুসারে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ১৪ লাখ ৬৫ হাজার ৬৪০ টাকা সুদ টাকা আদায়যোগ্য হবে। বর্ণিত তদন্ত মেয়াদে প্রতিষ্ঠানটির সর্বমোট অপরিশোধিত ভ্যাটের পরিমাণ ৩ কোটি ৪৯ লাখ ৪৭ হাজার ৮৫৪ টাকা এবং সুদ বাবদ ১ কোটি ১০ লাখ ৬১ হাজার ৫৮৭ টাকাসহ ৪ কোটি ৬০ লাখ ৯ হাজার ৪৪২ টাকা পরিহারের তথ্য উদ্ঘাটিত হয়।

তদন্তে আরো ভ্যাট গোয়েন্দা পেয়েছে যে, প্রতিষ্ঠানটি সরকারের ভ্যাট ফাঁকির উদ্দেশ্যে নানা ধরনের অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছে, যা ভ্যাট আইন অনুসারে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এসব অনিয়মের মধ্যে রয়েছে মাসিক রিটার্নে অসত্য তথ্য প্রদান করা এবং ভুয়া ভ্যাট চালান ইস্যু করা।