রসনা

বালিশ মিষ্টি

আপডেট : ১৯ মে ২০২১, ০৪:৫৩

বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলই কোনো না কোনো জিনিসের জন্য বিখ্যাত। যেমন নাটোরের কাঁচাগোল্লা, বগুড়ার দই, টাঙ্গাইলের চমচম, যশোরের কই। তেমনি নেত্রকোণা জেলার বালিশ মিষ্টি! কোল বালিশের মতো অবয়ব এই ‘বালিশ মিষ্টি’র। এর কারিগর ছিলেন গয়ানাথ। তাই একে ‘গয়ানাথের বালিশ মিষ্টি’ও বলা হয়।

বালিশ মিষ্টির একেকটার ওজন দুই কেজিরও বেশি আর আকার হয়ে থাকে তিন ইঞ্চি থেকে পনেরো ইঞ্চি বা শোয়া ফুট লম্বা। গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন আকারের মিষ্টি তৈরি করা হয়। এজন্য দামেও থাকে ভিন্নতা। একটি বালিশ মিষ্টির দাম সর্বনিম্ন ২০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা। তৈরির উপাদান ও কৌশলগত কারণে বালিশ মিষ্টির স্বাদ ও মান অতুলনীয়। নেত্রকোণার ঐতিহ্য বালিশ মিষ্টি সে অঞ্চলের মানুষেরা রাখতে চেষ্টা করেন তাঁদের প্রতিটি অনুষ্ঠান ও উত্সবে। অতিথি আপ্যায়নে নেত্রকোণাবাসীর প্রথম পছন্দও এই মিষ্টি।

প্রায় ১০০ বছর আগে নেত্রকোণা শহরে গয়ানাথ নামে একজন সুদক্ষ মিষ্টির কারিগর ও ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি তাঁর মিষ্টিতে সবসময়ই ভিন্নতা আনার চেষ্টা করতেন। একদিন তিনি কোল বালিশ অবয়বের বড় আকৃতির কয়েকটি মিষ্টি তৈরি করেন। পরে দেখা গেল, সেই মিষ্টি খুব তাড়াতাড়ি ক্রেতাদের কাছে প্রশংসিত ও পছন্দনীয় হয়ে উঠল। গয়ানাথ বালিশ মিষ্টির রেসিপি শিখিয়ে গিয়েছিলেন তাঁর বংশধর, কর্মচারী ও শিষ্যদের। তখন থেকে এখনো পর্যন্ত সেই প্রক্রিয়ানুযায়ী আকৃতি, স্বাদ, মান ও রং ঠিক রেখেই বানানো হয় বালিশ মিষ্টি।

-মুহাম্মাদ সোহাগ