ধোবাউড়া (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা
ধোবাউড়ায় গারো পাহাড়ের টিলা কেটে বসতবাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে। একটি অসাধু চক্রের সহায়তায় উপজেলার সীমান্ত এলাকায় বন বিভাগের জমিতে প্রায় অর্ধশত ঘরবাড়ি তৈরি করে সেখানে বসবাস শুরু করছেন অনেকে। এতে পরিবেশের বিপর্যয়ের সঙ্গে সঙ্গে পাহাড়ধসসহ হতাহতের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। পাহাড় কাটার ফলে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বনাঞ্চল এবং বিলীন হয়ে যাচ্ছে গারো পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এসব পাহাড়। এছাড়া উপজেলার পুটিমারী, ভেদীকুড়া এলাকাটি পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনাময় এলাকা। পাশেই রয়েছে চীনামাটির পাহাড়। যা পর্যটকদের আকর্ষিত করে। পাহাড় কেটে বনাঞ্চল ধ্বংসের ফলে বিলীন হয়ে যাচ্ছে পর্যটনশিল্পের সেই সম্ভাবনাও। বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধোবাউড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা পুটিমারী, গাছুয়াপাড়া, গোবরছনা, ভেদীকুড়া, দিঘলবাঘে গারো পাহাড়ে বন বিভাগের বিপুল পরিমাণ জমি রয়েছে। কিন্তু একটি অসাধু চক্র গারো পাহাড়ের খাড়া টিলা কেটে জমির দখলের পর অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করছে। বনবিভাগের তথ্যমতে, ধোবাউড়া সীমান্তে দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়নের ভেদীকুড়া, গাছুয়াপাড়া ও ঘোষগাঁও ইউনিয়নের গানই, দিঘলবাঘ, টাংগাটি এলাকায় মোট ২৪৫ একর বনভূমি রয়েছে। তার মাঝে টাংগাটি গ্রামের সম্পূর্ণ বনভূমি স্থানীয়রা দখল করে বসতবাড়ি নির্মাণ করেছেন। পুটিমারী রতের টিলায় অবস্থিত ফরেস্ট অফিসের সামনেই টিলা কেটে বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে।
সরজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাজংরা দখলসূত্রে এসব পাহাড় বিক্রি করে যান। সেখান থেকে শুধু দখল সূত্রে বিক্রি হচ্ছে এসব পাহাড়। নির্বিচারে কাটা হচ্ছে পাহাড়ি গাছ। এ ব্যাপারে টিলায় বসবাসরত রঞ্জিত রংদি জানান, নিজের জমিবাড়ি না থাকায় তারা পাহাড়ে বসবাস করছেন। তবে এখন সরকারি বন্দোবস্তের জন্য আবেদন করেছেন। তাদের দাবি সরকার যদি পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে তাহলে তারা পাহাড় ছেড়ে দেবেন। বনভূমি দখলের পাশাপাশি স্থানীয় একটি অসাধু চক্র পাহাড়ি গাছ কেটে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে ধোবাউড়া ভেদীকুড়া বিট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিট কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম জানান, প্রায় ৬৫ একরের বেশি বনভূমি স্থানীয়দের দখলে রয়েছে। এগুলোর তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মামলাও চলমান রয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাফিকুজ্জামান বলেন, সরকারি জায়গা যদি দখলে থাকে তাহলে অবশ্যই উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বনভূমির বিষয়টা বন বিভাগ দেখবে।
