ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
নবীনগর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নবীনগর থেকে ভৈরব নৌপথে স্পিডবোটে গাদাগাদি করে যাত্রী বহন করা হচ্ছে। যাত্রী পারাপারে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়াও। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে নবীনগর উপজেলা প্রশাসন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত যাত্রী চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। কিন্তু এই নির্দেশনা না মেনে মাথাপিছু ২০০ টাকা ভাড়ার স্থলে ২৫০ টাকা করে ১২-১৩ জন যাত্রী নিয়ে সকাল-সন্ধ্যা স্পিডবোট চলছে। যাত্রী পারাপারের সময় যাত্রীদের কোনোপ্রকার লাইফ জ্যাকেট দেওয়া হয়নি। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মুখে মাস্ক পরতেও দেখা যায়নি। আট জন যাত্রী পারাপারের বোটে ১২-১৩ জন করে নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে একাধিক যাত্রী জানান, ঈদের জন্য বাড়ি এসেছিলাম। ঈদ শেষ। এখন আমরা আমাদের কর্মস্থলে ফিরব। গন্তব্যে দ্রুত পৌঁছার জন্য স্পিডবোটে যাতায়াত করছি। আগে ভৈরব থেকে নবীনগর আসতে ২০০ টাকা করে ভাড়া থাকলেও আজ ২৫০ টাকা করে ৯ জনের বোটে গাদাগাদি করে ১২ জন যাত্রী এসেছে। মহামারি করোনায় সরকারের দেওয়া বিধিনিষেধ না মেনে স্পিডবোট চলাচলের বিষয়ে জানতে চাইলে স্পিডবোট মালিক মো. বিল্লাল হোসেন জানান, যাত্রী পারাপারে আমাদের প্রতিদিন অল্পসংখ্যক বোট চলাচল করে। ভৈরব থেকে আসার পথে দুই জন যাত্রী কম নিয়ে আসায় মাথাপিছু ৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। লকডাউনে বোট বন্ধ থাকার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না, আমাদের সুপারভাইজার এ বিষয়ে বলতে পারবেন।
বিধিনিষেধের সময় বোট চলাচল ও ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের কোনো অনুমতি আছে কি না, এ বিষয়ে নবীনগর স্পিডবোট ঘাটের সুপারভাইজার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা উপজেলা প্রশাসনের কাছে স্পিডবোট চলাচলের বিষয়ে কথা বললে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুধু জরুরি প্রয়োজনে অসুস্থ ও প্রশাসনিক কাজে প্রশাসনের লোকজনের চলাচলের ব্যাপারে বলা হয়েছে। কিন্তু সাধারণ যাত্রী চলাচলের কোনো অনুমতি প্রদান করেনি।’ অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে বললে তিনি বলেন, ‘আমরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া রোড নিয়ন্ত্রণ করি, ভৈরব রোড আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তারা যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া নিচ্ছেন।’ এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একরামুল ছিদ্দিক বলেন, ‘বিষয়টি জানতে পারলাম। অচিরেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
