প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান রাবিতে অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্তরা

আপডেট : ১৯ মে ২০২১, ২২:২০

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ‘এডহক’ নিয়োগপ্রাপ্তরা কর্মস্থলে যোগদান করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা উপমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। বুধবার (১৯ মে) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন নিয়োগপ্রাপ্ত আব্দুল্লাহ আল মাসুদ। 

লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, রাবিতে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়তা করতে গিয়ে তারা বিভিন্ন সময়ে জামাত-শিবির চক্রের হামলা-মামলা সহ নানা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। অনেকের সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স শেষে বেকার ও মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। রাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাত শতাধিক পদ দীর্ঘ দিন যাবত শূন্য থাকায় তারা উক্ত পদে নিয়োগের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট সিভি/জীবন বৃত্তান্ত জমা দেন। কিন্তু করোনার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় সদ্য সাবেক উপাচার্য গত ৫ মে ‘১৯৭৩ সালের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ এর ১২(৫) ধারায়’ অর্পিত ক্ষমতাবলে শূন্য পদের বিপরীতে ১৩৮ জনকে ‘এডহক’ নিয়োগ দেন। এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন এবং নিয়োগ ‘অবৈধ’ ও ‘বিধিবহির্ভূত’ আখ্যায়িত করে।

সংবাদ সম্মেলনে তারা দাবি করেন, ১৯৭৩ সালের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ এর ১২(৫) ধারা মোতাবেক, এই নিয়োগকে অবৈধ বলার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু দৈনন্দিন রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. আনন্দ কুমার সাহা ৮ মে তাদের যোগদান প্রক্রিয়া স্থগিত করেন। নিয়মিত উপাচার্যের নিয়োগ, দৈনন্দিন রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য’ স্থগিত করতে পারেন না দাবি করে তারা আরও বলেন, ১৯৭৩ এর রাবি অধ্যাদেশ অনুসারে ‘এডহক’ নিয়োগ একটি বৈধ প্রক্রিয়া। অতীতে প্রায় সকল প্রশাসন-ই ‘এডহক’ নিয়োগ দিয়েছে। এমনকি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞার পরও গত ১১ জানুয়ারি সেকশন অফিসার পদে ‘এডহক’ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, রাবি ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ইলিয়াছ হোসেন ও রায়হান মাসুদ, রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক ফারদীন, রাবি ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান সুমন, সহ-সভাপতি মো. ফারুক হাসান ও সাবেক ছাত্রবৃত্তি বিষয়ক সম্পাদক টগর মো. সালেহ প্রমুখ।

এর আগে সদ্য নিয়োগ পাওয়া ১৪১ জনের যোগদান স্থগিত করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন (রাবি)। গত ৮ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আব্দুস সালাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৫ মে রাবিতে দেওয়া এডহক নিয়োগকে অবৈধ ঘোষণা করে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ জন্য তদন্ত কমিটির রিপোর্টের প্রেক্ষিতে কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত উক্ত নিয়োগপত্রের যোগদান এবং তদন্ত সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রম স্থগিত রাখার অনুরোধ করা হলো।

রাবির বিদায়ী উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. এম আবদুস সোবহানের মেয়াদ শেষ হয় গত বৃহস্পতিবার (৬ মে)। আগের দিন তিনি অস্থায়ী ভিত্তিতে ১৪১ জনকে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়ে যান। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার তদন্ত কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই নিয়োগকে অবৈধ বলেছে মন্ত্রণালয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে এই নিয়োগ অবৈধ এবং নিয়মবহির্ভূত। সুতরাং যারা এই নিয়োগের সঙ্গে সম্পৃক্ত আমরা তাঁদের সাক্ষাৎকারের আওতায় এনেছি। আশা করছি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমরা একটা পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে পারব।

ইত্তেফাক/এসজেড