পুলিশের এসআই মো. আকরাম হোসেন হত্যার ঘটনায় বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত জোগাড় করছে পিবিআই। আকরামের ব্যবহূত মোটরসাইকেল ও হেলমেটটি জব্দ করেছে পিবিআই। আকরামের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী বনানী বিনতে বশির বহ্নির দায়ের করা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শৈলকুপা থানার তখনকার এসআই সাজ্জাদ হোসেনকে গতকাল বুধবার ঝিনাইদহ পিবিআই অফিসে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদে কোন পরিস্থিতিতে মামলায় ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়া হয় তা জানার চেষ্টা করা হয়। পিবিআইয়ের একটি সূত্র জানায়, তারা আকরাম নিহতের ঘটনার তথ্য-প্রমাণ জোগাড় করছে। এর বেশি কিছু জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
আকরাম হোসেন ঝিনাইদহ শহরের হামদো পূর্বপাড়ার আবুল হোসেন মাস্টারের ছেলে। তারা পাঁচ বোন, এক ভাই। অনার্স পাশ করার পর ২০০১ সালে পুলিশের এসআই পদে যোগ দেন আকরাম। ঘটনার সময় তিনি ঢাকা বিমান বন্দরে এসবি শাখায় কর্মরত ছিলেন।
তার বোন জান্নাত আরা পারভিন বলেন, ২০০৬ সালের ১৩ জানুয়ারি বনানী বিনতে বশির বহ্নির সঙ্গে পারিবারিকভাবে আকরামের বিয়ে হয়। ২০১৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর রক্তাক্ত অবস্থায় শৈলকুপা উপজেলার বড়দা গ্রামের মহাসড়ক থেকে উদ্ধার করে আকরাম হোসেনকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে তারা হাসপাতালে যান। ঘটনার পর থেকে বহ্নির আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায়। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে আকরামের অপারেশন করা হয়। জান্নাত আরা অভিযোগ করেন, এ সময় আকরামের স্ত্রী বহ্নি স্বামীর পাশে ছিলেন না। আকরামকে আইসিইউতে রাখা হয়। ছেলের গুরুতর আহত হওয়ার খবর শুনে তার মা হূদরোগে আক্রান্ত হন। আকরাম হাসপাতালে থাকাকালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় ৫ জানুয়ারি মা মারা যান।
জান্নাত আরা আরো অভিযোগ করেন, পুলিশের পক্ষ থেকে আকরামের চিকিত্সার জন্য ১ লাখ টাকা সাহায্য দেওয়া হলেও ঐ টাকা বহ্নি আকরামের চিকিত্সায় ব্যয় করেনি। ১৩ জানুয়ারি আকরাম মারা যায়।
তিনি বলেন, মৃত্যুর পর আমাদের না জানিয়ে বহ্নির আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ রাজারবাগ পুলিশ লাইনে নিয়ে যাওয়া হয়। জানাজার পর গাড়ি ভাড়া করে পুলিশ লাশ ঝিনাইদহের বাড়িতে পৌঁছে দেয়। এ সময় বহ্নি ঝিনাইদহে আসতে টালবাহানা শুরু করে। অসুস্থতার ভান করে। ঝিনাইদহে আসার পর বহ্নি ও তার বাবা আকরামের দাফনের সময় উপস্থিত ছিল না। তাদের মাঝে শোকের লেশমাত্রও দেখা যায় না। মেয়ে বাবা মাগুরার বাবুল আক্তারের বাড়িতে গিয়ে ওঠেন। তিনি অভিযোগ করেন বহ্নি ও বাবুল আকতার ষড়যন্ত্র করে তার ভাইকে হত্যা করিয়েছে। তিনি দাবি করেন, বহ্নি ও বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এ হত্যা রহস্য উদ্ঘাটিত হবে।
