শেহওয়ার অ্যান্ড মারিয়া: এক ইউটিউবার দম্পতির গল্প

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২১, ২০:৪০

তরুণ দম্পতি শেহওয়ার ও মারিয়া। বাংলাদেশের ছেলে শেহওয়ার ও রোমানিয়ান মেয়ে মারিয়া। অল্প সময়ের মধ্যে অনলাইন দুনিয়ায় বেশ সাড়া ফেলে দিয়েছেন এই দম্পতি। বর্তমানে তারা বসবাস করছেন যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরে। করোনার মধ্যে যখন লকডাউন শুরু হয় তখনই সূচনা তাদের শেহওয়ার অ্যান্ড মারিয়া ইউটিউব ও ফেসবুক পেজের।

দুই ভিন্ন মেরুর দুইজন মানুষ বাংলা ভাষায় তাদের জীবন যাপনের ভিডিও, নানান বিষয়ে হাসির কৌতুকের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন। যা মুহূর্তের মধ্যে দেখে ফেলে লাখ লাখ মানুষ। তারা লকডাউনের ডায়েরি নামে একে একে ১৪টি সিগমেন্ট বানিয়ে ফেলেন। যা ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে থাকা বাঙালি দর্শকমহলে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। লন্ডনের জনপ্রিয় প্রায় সব জায়গাতেই ভিডিও ব্লগ করেছেন এই দম্পতি। তার মধ্যে অন্যতম ক্যাম্ব্রিজ, লিটেল ভেনিস, ওয়েস্টফিল্ড শপিং সেন্টার, বরো মার্কেট, ক্যামডেন মার্কেট, বাকিংহ্যাম, কভেন্ট গার্ডেন ও বিখ্যাত টেমস নদীও উঠে এসেছে এই তরুণ দম্পতির ব্লগে।

দুই মেরুর দুইজনের পরিচয়টা কীভাবে জানতে চাইলে শেহওয়ার বলেন, ‘আমাদের পরিচয় হয় ২০১৭ সালের অক্টোবরে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মিউচুয়াল ফ্রেন্ড লিস্টে থাকা এক বন্ধুর মাধ্যমে আমাদের পরিচয় হয়। এরপর বন্ধুত্ব, পরিণয়। একে অন্যকে বোঝা, ভালোলাগা—এমন করেই কেটে গেছে তিন বছর। সর্বশেষ গতবছরের শুরুতে বাংলাদেশে পারিবারিকভাবে আমরা বিয়ে করি।’

শেহওয়ারের জন্ম ঢাকায়। ঢাকায় জন্ম হলেও বাবার চাকরির সুবাদে ঢাকা, কুমিল্লা, সিলেট, যশোর, বগুড়াসহ দেশের নানা প্রান্তে শৈশব কেটেছে। আর সেখান থেকেই দেশ-বিদেশ ভ্রমনের চিন্তা মাথায় ঢুকে তার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার পরও উচ্চ শিক্ষার জন্য ২০০৫ সালে লন্ডনে পাড়ি জমান। সেখানে গিয়ে তিনি স্নাতকোত্তর করেন হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্টের ওপর (সিআইপিডি) কোর্স সম্পন্ন করেন। বর্তমানে মানবসম্পদ বিভাগে কাজ করছেন শেহওয়ার।

আর মারিয়ার জন্ম ও বেড়ে উঠা বাংলাদেশ থেকে ছয় হাজার কিলোমিটার দূরের দেশ রোমানিয়ার প্লয়েশতি শহরে। রোমানিয়ার মেয়ে হলেও বাংলা ভাষাটা বেশ ভালোই রপ্ত করেছেন মারিয়া। বর্তমানে মারিয়া কাজ করেন স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে। এর আগে মারিয়া স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপক হিসেবে ২ বছর কাজ করেছেন ইরাকের কুর্দিস্তানে। মারিয়া লন্ডনে আসেন ২০১৫ সালে। এসেই তিনি স্বাস্থ্য সুরক্ষার ওপর (নিবস) একটি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। শেহওয়ার বলেন, ‘আমরা দুজনই ঘুরতে খুবই পছন্দ করি। মহামারি শেষ হলে আমরা আবারও দর্শকদের জন্য নতুন নতুন জায়গার ব্লক তৈরি করব। এরই মধ্যে আমি ৫০টির বেশি দেশ ঘুরেছি। মারিয়া তার চেয়ে কিছু কম। তবে আমরা একসঙ্গে অনেক দেশ ঘুরেছি। আমাদের সবচেয়ে পছন্দের জায়গাগুলোর মধ্যে রয়েছে ভেনিস, সান্তোরিনি, মিলান, মিকোনোস, বার্সেলোনা, আমস্টারডাম, বার্লিন, ভিএনা, ইস্তানবুল, কেমব্রিজ এবং ট্রানসিলভানিয়া। এর মধ্যে মারিয়ার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ইতালির ভেনিস আর আমার এর গ্রিসের সান্তোরিনি।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল, শেহওয়ার অ্যান্ড মারিয়ার সাবস্ক্রাইবার ১ লাখ হওয়ার পর বাংলাদেশি এক শিশুর ভরণপোষণের দায়িত্ব নেই। যার নাম ফাতিহা। ফাতিহার সঙ্গে আমাদের চিঠির মাধ্যমে যোগাযোগ হয়। গতমাসে সে আমাদেরকে একটা ছবি এঁকে পাঠিয়েছে যা আমাদের কাছে অমূল্য। মহামারির পরে আমরা যখন বাংলাদেশে যাব, তখন আশা করি তার সঙ্গে দেখা করতে পারব। আমরা এই শিশুটির পাশে থাকতে পেরে নিজেদেরকে অনেক ভাগ্যবান মনে করি। এটি আমাদের জীবনের বিশেষ পাওয়া।’ শেহওয়ার অ্যান্ড মারিয়ার ফেসবুক পেজে প্রায় ৯ লাখ ফলোয়ার এবং ইউটিউব চ্যানেলে প্রায় ৪ লাখ সাবস্ক্রাইবার। তাদের ফেসবুকের সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিডিওটি ৮০ লাখ বার মানুষ দেখেছেন। গড়ে ফেসবুকে তাদের একেকটা ভিডিও ১৫-২০ লাখ বার মানুষ দেখেন।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি