যশোর সীমান্ত দিয়ে ভারতফেরত দুই শিশুর করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে একজন ১১ বছর বয়সী এবং আরেকজন ছয় মাস বয়সী। তাদের যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন শিশুর হাসপাতালে ভর্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১১ বছর বয়সী শিশুটি ব্লাড ক্যানসারের রোগী। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে তার মা ও মামা ভারতে নিয়ে যান। সেখান থেকে তারা গত ৫ মে বেনাপোল ইমিগ্রেশন হয়ে দেশে ফেরেন। এরপর জেলা প্রশাসন ঐ শিশু, তার মা ও মামাকে বেনাপোলের নিশান হোটেলে ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে পাঠায়।
শিশুটি ও তার স্বজনদের কোয়ারেন্টিনের ১৪তম দিনে মঙ্গলবার সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষায় পাঠানো হয়। বুধবার ফলাফলে নিশ্চিত হওয়া গেছে শিশুটি করোনায় আক্রান্ত। তবে তার মা ও মামা করোনা নেগেটিভ হয়েছেন। এজন্য বুধবার রাতে শিশুটিকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন থেকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সাথে তার মা রয়েছেন। তবে মামাকে ছাড়পত্র দেওয়ায় তিনি বাড়ি ফিরে গেছেন।
এছাড়া এক নারী ও তার ছয়মাস বয়সী শিশুসন্তানের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তারা যশোর বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ছিলেন। বাধ্যতামূলক ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন শেষে ১৮ মে তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। ফলাফল পজিটিভ আসায় তাদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন বলেন, এই প্রথম ভারতফেরত কোনো শিশুর শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হলো।
এদিকে, মাগুরায় ভারত ফেরত ৯৭ বাংলাদেশী নাগরিকের মধ্যে ৬৭ জনের করোনা পরীক্ষায় ৩ জনের শরীরে শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের সদর হাসপাতালের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।
সিভিল সার্জন ডাক্তার শহীদুল্লাহ দেওয়ান জানান, গত ৮ মে এবং ৯ মে ২০২১ রাতে ৯৭ বাংলাদেশী নাগরিক ভারতীয় ইমিগ্রেশন পার হয়ে বেনাপোল আসেন। যারা জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। পরে বেনাপোল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থায় তাদেরকে প্রশাসনের মাধ্যমে মাগুরা স্বাস্থ্যবিভাগের কাছে হস্তান্তর করে। স্বাস্থ্যবিভাগ ও প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে শহরের ঢাকা রোডে সৈকত হোটেলে, পার্শ্ববর্তী হোটেল ঈগল ও ভায়না মোড়ের হোটেল মণ্ডলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। হোটেলে অবস্থানরতদের গত ১৮ মে ৬৭ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য যশোর পাঠানো হয়। যাদের মধ্যে ৩ জনের শরীরে করোনা পজিটিভ এসেছে। আক্রান্ত ৩ জনের মধ্যে পুরুষ দুই জন এক নারী রয়েছে। তাদের বয়স ২৫ থেকে ৫০ বছর। আক্রান্তদের মাগুরা সদর হাসপাতালে আইসোলেশন সেন্টারে রাখা হয়েছে। বাকীদের পরীক্ষার ফলাফল দ্রুত পাওয়া যাবে। তবে করোনা আক্রান্তদের শরীরে ভারতীয় ভেরিয়েন্ট আছে কি না তা জানতে আরও ৪০ থেকে ৭২ ঘণ্টা লাগবে বলে তিনি জানান।
ইত্তেফাক/এসআই
