চট্টগ্রাম বন্দরের ইতিহাসে গত বুধবার সর্বোচ্চসংখ্যক কনটেইনার ডেলিভারি হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের জেটি থেকে প্রায় ৮ হাজার ট্রাক-লরি, কাভার্ড ভ্যানযোগে এক দিনে ৫ হাজার ৩০ কনটেইনার ডেলিভারি নেওয়া হয়েছে বলে বন্দরের ট্রাফিক বিভাগ থেকে জানা যায়। চট্টগ্রাম বন্দরের ট্রাফিক বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, এ যেন ডেলিভারির জোয়ার বইছে। বন্দরের ইতিহাসে এত বিপুলসংখ্যক কনটেইনার ডেলিভারির নজির নেই। এতে করে বন্দরের জেটির স্পেস উন্মুক্ত হয়েছে। সাধারণত ঈদ-পরবর্তী কয়েক দিন চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে কনটেইনারের জট পড়ে যায়। বিশেষ করে ঈদের পূর্বে ও পরে ডেলিভারির স্লথ গতির কারণে বন্দরকে কনটেইনারের জন্য সমস্যায় পড়তে হয়। কিন্তু এবার ঈদের ছুটি সংক্ষিপ্ত থাকায় এবং কলকারখানা চালু থাকায় আমদানিকারকগণ তাদের কাঁচামালের জন্য দ্রুত পণ্য ছাড় করায় বিপুলসংখ্যক পণ্যবাহী কনটেইনার বন্দর থেকে ডেলিভারি হয়।
চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ শাহজাহান ইত্তেফাককে জানান, বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সমন্বয় এবং ব্যবসায়ীদের সদিচ্ছার কারণে পণ্যবাহী কনটেইনার ডেলিভারির ক্ষেত্রে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের লকডাউন ঘোষণায় তা সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। কারণ সড়ক-মহাসড়কে যানবাহন কম থাকায় কনটেইনারবাহী যানবাহন দ্রুত চলাচল করতে পেরেছে। ফলে আমদানিকারকগণের পণ্য দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, লকডাউনের কারণে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় চট্টগ্রাম বন্দর থেকে রেলপথে ঢাকা আইসিডিমুখী কনটেইনার পরিবহন অনেক গুণ বেড়েছে।
