পিরোজপুর পৌর পানি সরবরাহ প্রকল্পে পানির অভাব, দুর্ভোগে শহরবাসী

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৫:৩৬

পিরোজপুর পৌর পানি সরবরাহ প্রকল্পের পুকুরে নদী থেকে আসা পানির অভাব দেখা দেওয়ায় শহরে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকে। বলেশ্বর নদের তলদেশ ভরাট হয়ে পানি কমে যাওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়। ফলে পিরোজপুর শহরের প্রায় সাত হাজার সংযোগে পানি না আসায় শহরবাসী মারাত্মক দুর্ভোগে পড়েন।

পৌর কর্তৃপক্ষ বলছেন, শহরের পানি সরবরাহ প্রকল্পটি পাশের বলেশ্বর নদ থেকে পাওয়া পানি ব্যবহার করে প্রায় তিন যুগ ধরে শহরবাসীর মধ্যে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিদিন ২০ ঘণ্টা পাম্প চালু রেখে সকাল-বিকাল দুই বেলা পালাক্রমে পানি দেওয়া হয়। গত দুই-তিন দিন ধরে বলেশ্বর নদে পানি আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। স্বাভাবিক গতিতে নদী থেকে পানি প্রকল্পের পুকুরে আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার সকালে শহরে পানি সরবরাহ বাধ্য হয়ে বন্ধ করতে হয়। বুধবার ড্রেজার সংগ্রহের চেষ্টা করে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় ড্রেজারের পাম্প চালু করে পুকুরের পানি উঠানো শুরু হয়।

দুপুর ১টা দিকে সরেজমিনে দেখা যায় নদীর পানি এতটাই কম যে মাঝে মাঝে পাম্প বন্ধ রাখতে হয়। এ সময় দেখা যায় নদীতে পানির প্রবাহ এতটাই কম এবং তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় বলেশ্বর সেতু থেকে শুরু করে উত্তর দিকে পাঁচ-ছয় কিলোমিটার এলাকা নাব্যতা সংকটে পতিত। ছোট ছোট নৌযানের চলাচলও ব্যহত হচ্ছে। ছোট ছোট ছেলেরা বিভিন্ন পয়েন্টে হেঁটে নদীর এপার-ওপার করছে। স্থানীয়রা জানায়, একমাস ধরে এ অবস্থা চলছে, যা আরও দুই এক মাস চলতে পারে।

আরো পড়ুন: প্রেমিকের প্রতিবেশী হতে ১৩ কোটি টাকা খরচ করলেন আলিয়া!

পিরোজপুর পৌর পানি সরবরাহ প্রকল্পের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শামীমুর রহমান জানান, নদীতে মরাকাটাল থাকায় দুই-তিন ধরে বলেশ্বরে এই পানি সংকট দেখা দিয়েছে। তাই প্রকল্পের পুকুর ভরতে ড্রেজার ভাড়া করা হয়েছে। প্রায়ই নদীর পানি কমে যাওয়ায় ভরা পুকুরের পানি মাঝে মাঝে নদীতেও চলে যায়। এই প্রকল্প দিয়েই শহরের দুইটি ওভারহেড ট্যাঙ্কের মাধ্যমে শহরে দৈনিক ৬০ হাজার লিটার পানি সরবরাহ করা হয়। বৃহস্পতিবার এ পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় শহরবাসীর মধ্যে হঠাৎ করে পানির হাহাকার দেখা দেয়।

পিরোজপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাদুল্লাহ লিটন ও ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শহীদুল ইসলাম সিকদার বলেন, পানির হঠাৎ এ সংকটে শহরবাসীর কাছ থেকে প্রতিনিয়ত অভিযোগের কথা শুনে তারাও উৎকণ্ঠিত।

পিরোজপুর পৌরসভার মেয়র মো. হাবিবুর রহমান মালেক জানান, বলেশ্বর নদের তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি সরবরাহে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। নদী খনন করা না হলে পিরোজপুর পৌর পানি সরবরাহ প্রকল্পে এই শুকনা মৌসুমে সৃষ্ট সমস্যা দূর করা কঠিন। ১৫০ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষ শহরের পশ্চিম দিকের বলেশ্বর নদ খনন প্রকল্প গ্রহণের জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানানো হবে। পাশাপাশি বিকল্প হিসাবে শহরের দক্ষিণ-পূর্ব পাশ দিয়ে প্রবাহিত কঁচানদীতে তিনটি ওভারহেড ট্যাঙ্কসহ একটি নতুন ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপনও প্রয়োজন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের পিরোজপুর বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইদ আহমেদ জানান, বলেশ্বর নদ খনন প্রকল্প ও পিরোজপুর শহর রক্ষা বাঁধ প্রকল্প নামে দুইটি ভিন্ন ভিন্ন প্রকল্প তৈরীর কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উল্লেখ, ২০১১ সালে জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ড থেকে প্রায় আট কোটি টাকা ব্যয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বলেশ্বর নদের গোড়ায় একদফা মরা বলেশ্বর পুনর্খনন কাজ করা  হয়। পাশের জেলা বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলা এলাকার কিছু গ্রামবাসীর আদালতে মামলা দেয়ার কারণে এ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা যায়নি।

ইত্তেফাক/বিএএফ