জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের সঙ্গে যে বর্বরতা হয়েছে তা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। গণমাধ্যমের কল্যাণেই আমরা বিভিন্ন দপ্তরে লুটপাটের খবর জানতে পারি। করোনাকালে মাস্ক, পিপিই, হাসপাতালের যন্ত্রপাতি কেনায় যে দুর্নীতি হয়েছে তা অনুসন্ধানী প্রতিবেদকরাই জাতির সামনে তুলে ধরেছেন। আবার করোনা টিকা আমদানি করে একটি কোম্পানি ইতিমধ্যেই ৫০ কোটি টাকা লোপাট করেছে। বর্তমানে টিকা আমদানিতে কি হচ্ছে আমরা জানি না। পেশার ও জনস্বার্থে তথ্য সংগ্রহ কখনো চুরি হতে পারে না।
ফিলিস্তিনের ওপর ইসরাইলের হামলা বন্ধ এবং সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের মুক্তির দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাপা আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি একথা বলেন।
জি এম কাদের বলেন, রোজিনাকে হেনস্তা ও তার বিরুদ্ধে মামলার প্রকৃত ঘটনা উন্মোচনে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। গণমাধ্যম কর্মীদের চাকরির সুরক্ষা এবং কাজের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
মানববন্ধনে জাপা মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, রোজিনা ইসলামকে যেভাবে হেনস্তা করা হয়েছে তা স্বাধীনতার চেতনা পরিপন্থি। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি মানুষের বাক্ ও ব্যক্তি স্বাধীনতার জন্য। কিন্তু আজ দেশে গণতন্ত্রহীনতার কারণে মানুষ কথা বলতে পারছে না। গণমাধ্যম কর্মীরা সত্য প্রকাশ করতে পারছেন না, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই। গণমাধ্যমের যেসব কর্মী সত্য প্রকাশে এগিয়ে আসছেন তাদের ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতন নেমে আসছে। তিনি বিশ্ব সম্প্রদায়ের সমালোচনা করে বলেন, ফিলিস্তিনের ওপর ইসরাইলি হামলা মানবতাবিরোধী অপরাধ।
মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে জাপার কো-চেয়ারম্যান ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেও একজন নারী। আমরা বিশ্বাস করি, রোজিনার বিযয়টি তিনি সরাসরি হস্তক্ষেপ করে দ্রুত তার মুক্তির ব্যবস্থা করবেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাপার সাধারণ সম্পাদক জহিরুল আলম রুবেল এবং পার্টির যুগ্ম-সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন দের পরিচালনায় মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন—জাপার সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান টেপা, হাজি সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, আলমগীর সিকদার লোটন, নাজমা আক্তার, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী প্রমুখ।
