করোনাকালে অসহায় মানুষের পাশে ‘জয় বাংলা স্কোয়াড’

আপডেট : ২১ মে ২০২১, ২১:১৭

মাহবুব রনি

দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব তখন সবে শুরু। সংক্রমণের আশঙ্কায় স্বজনের পাশে দাঁড়াতে ভয় পেতেন স্বজন। ঠিক তখন মানুষের ডাকে-সেবায় এগিয়ে আসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থী মিলিয়ে নয় তরুণ। গড়ে তুলেছেন প্রায় ১ হাজার তরুণের এক স্বেচ্ছাসেবী দল। মোটরসাইকেলে-বাইসাইকেলে ছুটে গেছেন অসুস্থ-অভাবী-দুস্থ কিংবা বিপদে পড়া মানুষের পাশে। সেই ছুটে চলা এখনো অব্যাহত। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার, শিশুখাদ্য, ওষুধ, অর্থ, টেলিমেডিসিন সেবা, অক্সিজেন, অ্যাম্বুলেন্স—যার যেমন প্রয়োজন তাদের ডাকে তা নিয়ে পৌঁছে যাচ্ছেন তারা। এ তরুণদের সম্মিলিত নাম ‘জয় বাংলা স্কোয়াড’। দেশের ২১টি জেলায় ২০ হাজারের বেশি পরিবারের পাশে তারা দাঁড়িয়েছেন।

নিজেদের আর্থিক সামর্থ্য, পরিচিত-অপরিচিতদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা অর্থ ও সহযোগিতা এবং স্বেচ্ছাশ্রমে গড়ে উঠা জয় বাংলা স্কোয়াডের গল্পের সারাংশ এমনই। দেশে করোনা শনাক্তের পর গত বছরের এপ্রিলে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজের কয়েক জন ইন্টার্ন ডাক্তার। এক কক্ষে অনেকে গাদাগাদি করে থাকায় ইন্টার্ন ডাক্তার ও শিক্ষার্থী মিলিয়ে প্রায় ৬০ জন আটকে পড়েন কলেজ প্রাঙ্গণে। হাসপাতাল অঙ্গনে থেকে খাবার ও ওষুধ সংকটে পড়েন তারা। তাদেরই একজন ফেসবুক লাইভে বিষয়টি জানানোর পর জরুরিভিত্তিতে খাবার ও ওষুধ নিয়ে যান জয় বাংলা স্কোয়াডের মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান সমন্বয়ক ভূঁইয়া মো. ফয়েজউল্লাহ মানিকসহ কয়েকজন। এরপর সরকারি-বেসরকারি নানা পর্যায়ে যোগাযোগ করে ঐ ইন্টার্ন ডাক্তারদের খাদ্য ও চিকিত্সা প্রাপ্তি নিশ্চিত করেন তারা।

রাজধানীর হাতিরপুলে বাস করতেন চাকরিজীবী দম্পতি আবুল হাসান ও সুস্মিতা (ছদ্মনাম)। গত বছরের জানুয়ারিতে এ দম্পতির প্রথম সন্তান আসে পৃথিবীতে। প্রসবজনিত নানা জটিলতার চিকিত্সায় সঞ্চয় শেষ হয়ে যায় তাদের। করোনার শুরুর দিকে মে মাসে চাকরি চলে যায় দুই জনেরই। নিজেদের খাবার কোনোভাবে ব্যবস্থা করা গেলেও একপর্যায়ে সন্তানের খাবার-ওষুধ জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ে তাদের জন্য। এ দম্পতির জন্য জরুরিভিত্তিতে শিশুখাদ্যসহ অন্যান্য খাবার ও ওষুধ নিয়ে যান জয় বাংলা স্কোয়াডের স্বেচ্ছাসেবীরা। বিনামূল্যে টেলিমেডিসিন সেবা দিয়েছেন স্কোয়াডের হয়ে ৫০-এর বেশি ডাক্তার। করোনা সংক্রান্ত জরুরি তথ্যসেবা দিয়েছেন কর্মীরা। জরুরি ফোনকলে ছুটে যাচ্ছেন অক্সিজেন সিলিন্ডার কিংবা অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে।