করোনায় জীবন-জীবিকার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা

আপডেট : ২১ মে ২০২১, ২১:৩০

করোনা সহজে চলে যাবে বা ভ্যাকসিন পেলেই করোনা থেকে মুক্ত হয়ে যাব এমন প্রত্যাশা এখনো দুরাশা। তাই করোনাকে সঙ্গে নিয়েই আমাদের চলতে হবে। জীবন ও জীবিকার সম্পর্ক অচ্ছেদ্য—একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটি চিন্তা করা যায় না। তাই জীবন ও জীবিকার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে সময়োপযোগী ও বাস্তবভিত্তিক কৌশল নির্ধারণ করাটাই বড় চ্যালেঞ্জ।

জীবিকা বন্ধ রাখা যাবে না। তাহলে জীবন সংকটে পড়বে। তবে জীবিকাকে সচল করতে গিয়ে যে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়, তা কমাতে আনুষঙ্গিক স্বাস্থ্যবিধি যেমন মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ইত্যাদি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। করোনা পৃথিবী থেকে খুব সহজে যাচ্ছে না, তাই উন্নয়ন চিন্তায় অবশ্যই পরিবর্তন আনতে হবে। বর্তমানে অর্থনীতির সঙ্গে স্বাস্থ্য ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই স্বাস্থ্য-অর্থনীতি যুগপত্ ভাবতে হবে। জীবন ও জীবিকার ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টি জটিল ও সংবেদনশীল। শুধু জীবন নিয়ে ভেবে জীবন রক্ষা করা যাবে না অথবা শুধু জীবিকা নিয়ে ভেবেও জীবন ও জীবিকার ভারসাম্য রক্ষা করা যাবে না। ভাবতে হবে সমন্বয় করে, ভাবতে হবে যুগপত্ভাবে।

করোনা সংক্রমণরোধ এবং মহামারির পরে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং সামাজিক বিপর্যয় ঠেকাতে আমাদের স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘ মেয়াদি কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। গ্রামাঞ্চলে ছোট ছোট প্রকল্প গ্রহণ করে খেটে খাওয়া মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা জরুরি। দরিদ্র, নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের জন্য খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের সরবরাহ অব্যাহত রাখতে রেশন কার্ড ব্যবস্থা চালু করা যায়। সর্বোপরি হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা সম্প্রসারণ করা উচিত। কৃষি তথা খাদ্য উত্পাদনে এবং মজুদে জোর দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর ভাষায় এক ইঞ্চি জায়গাও যেন পতিত পড়ে না থাকে। ছাদকৃষি কার্যক্রমে ব্যাপক জোর দিতে হবে।

করোনাকালে সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়েছে কাজ হারানো মানুষ, দিনমজুর, দোকান-কর্মচারী, ক্ষুদ্র, মাঝারি শিল্পের সঙ্গে জড়িত মালিক-শ্রমিক, পরিবহন শ্রমিক, রিকশাওয়ালাসহ অতি দরিদ্র এবং দরিদ্র মানুষ। কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিম্নবিত্তের মানুষজনও আছে, যারা চাপা কষ্টের মধ্যে দিন পার করছে। কাজ না থাকায় তাদের উপার্জন নেই। উপার্জন না থাকার ক্রয়ক্ষমতা শূন্যের কোটায়। ফলে পর্যাপ্ত খাদ্য সামগ্রী মজুদ থাকা সত্ত্বেও তারা খাদ্য সামগ্রীসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয় করতে পারছে না। দুটি বিষয় এখানে ভেবে দেখা যেতে পারে—এক. দেশে পর্যাপ্ত মজুদ আছে, দুই. সরকারের হাতে টাকা মজুদ আছে। টাকা আছে কিন্তু সার্কুলেশনে যেতে পারছে না। এই অচল টাকাকে কিভাবে সচল করা যায় তা নিয়ে ভাবা যেতে পারে। মানুষের কাছে টাকা কীভাবে পৌঁছানো যায় সেই ব্যবস্থার কথা ভাবা যায়। মানুষকে অনুদান দিয়ে, ঋণ দিয়ে তাদের কাছে টাকা পৌঁছানোর কথা ভাবা যেতে পারে। আগে যিনি যে পেশায় কাজ করতেন এবং যা আয় করতেন সেই টাকা তাঁকে অনুদান (বা কর্জে হাসানা, যখন সক্ষমতা অর্জন করবেন তখন পরিশোধ করবেন) বা ঋণ হিসাবে দেওয়া যেতে পারে। সেটি তিন মাস বা ছয় মাসের জন্য হতে পারে। তবে এক্ষেত্রে শতভাগ সততার সঙ্গে কাজটি করতে হবে।

ঢাকা