ফলন নিয়ে শঙ্কা কৃষকের
দিনাজপুর অফিস
নানা রকম দুর্যোগের পরও দিনাজপুরের বাজারে উঠেছে কাঁচা-পাকা মাদ্রাজি লিচু। তবে এবার ফলন প্রায় অর্ধেকের নিচে নেমে আসবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন কৃষক ও বাগান মালিকরা। এদিকে ইতিমধ্যেই দিনাজপুর বড় ময়দানে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে অস্থায়ীভাবে স্থাপন করা হয়েছে লিচুর বাজার।
মৌসুমের শুরু থেকেই এবার দিনাজপুরের বিভিন্ন লিচুর বাগান ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ লিচুর গাছেই মুকুলের পরিবর্তে বের হয় নতুন পাতা। বিশেষ করে বোম্বাই জাতের লিচুর গাছে এ অবস্থা হয়েছে। ফলে শুরু থেকেই দিনাজপুর জেলায় এবার ফলন প্রায় অর্ধেকের নিচে নেমে আসার আশঙ্কা করেন বাগানমালিকরা। এরপর লিচু পরিপক্ব হয়ে আসার আগে দাবদাহে গাছেই ফেটে যাচ্ছে লিচু। কিছু কিছু লিচু গাছ থেকেই ঝরে পড়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় যেসব বাগানমালিকের গাছে লিচু এসেছে, তারা চিন্তায় আছেন। দিনাজপুর সদর উপজেলার মাসিমপুর গ্রামের লিচু চাষি হাফিজুল ইসলাম জানান, তার লিচু বাগানের ৫০টি গাছের মধ্যে এবার মুকুল আসে প্রায় অর্ধেক গাছে। সেই মুকুল গুটিতে পরিণত হওয়ার পর এখন পরিপক্ব হতে শুরু করেছে। কিন্তু আবার এক বিপর্যয় শুরু হয়েছে। গাছেই লিচু ফেটে যেতে শুরু করেছে। এতে লিচু নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তিনি। বাগানমালিকরা জানান, বৈশাখে অনাবৃষ্টি ও খড়ার কারণে লিচুর দানা তেমন পরিপুষ্ট হচ্ছে না। এরই মধ্যে দাবদাহের মধ্যে শিলাবৃষ্টির কারণে লিচু ফেটে যাচ্ছে। একের পর এক দুর্যোগে লিচুর ফলন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
বুধবার দুপুরে দিনাজপুর বড় ময়দানে গিয়ে দেখা গেছে, প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ইতিমধ্যেই লিচু বাজারের ঘর তৈরি করা হয়েছে। আংশিক হলেও বেচাকেনা শুরু হয়ে গেছে। করোনা পরিস্থিতির জন্য গত বছর থেকে লিচুর বাজার শহরের নিউ মার্কেট থেকে স্থানান্তর করে বড় মাঠেই বসানো হচ্ছে। বড় ময়দানে লিচু বিক্রেতা রমজান আলী জানান, তিনি মাদ্রাজি জাতের লিচু বিক্রি করছেন। প্রতি শ লিচু ১৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। তবে এ লিচু খাওয়ার যোগ্য নয়, এখনো যথেষ্ট টক রয়েছে। খড়ার কারণে লিচু ফেটে যাওয়ায় বাগান চাষি এ লিচু বাজারে তুলেছেন। ফলে ব্যবসায়ীরা কাঙ্ক্ষিত লাভ পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, আর কয়েক দিনের মধ্যে বাজার ভরপুর হয়ে উঠবে লিচুতে।
দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক প্রদীপ কুমার গুহ জানান, দিনাজপুরে ছোটবড় মিলিয়ে ৬ হাজার ৫৪৬ হেক্টর জমিতে লিচুর বাগান রয়েছে। এখন বাজারে মাদ্রাজি জাতের লিচু উঠেছে। কয়েক দিন পর বেদানা ও চায়না থ্রি লিচু বাজারে উঠতে শুরু করবে। এরপরই বোম্বাই জাতের লিচু উঠবে। তিনি বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ুগত পরিবর্তনের প্রভাবে এবার লিচুর ফলন কম হয়েছে। আর লিচু ফেটে যাওয়ার কারণ হচ্ছে সঠিকভাবে গাছে সেচ না দেওয়ায় গাছের খাদ্য চাহিদা বেড়ে যাওয়া। শেষ সময়ে বৃষ্টির কারণে গাছে অতিরিক্ত পানি শোষণ করায় লিচুর ভেতরের অংশ যেভাবে বেড়েছে, সেভাবে বাইরের অংশে বাড়েনি। সে কারণেই লিচু ফেটে যেতে পারে। তবে এবার একের পর এক দুর্যোগের মধ্যেও বাজারে উঠতে শুরু করেছে লিচু। অনেকে অধিক দামের আশায় অপরিপক্ব লিচুও বাজারে আনতে শুরু করেছে।
