বিধিনিষেধ উপেক্ষিত
রতন কুমার আচার্য্য, বেড়া (পাবনা) সংবাদদাতা
ঈদ ও ঈদ-পরবর্তী সময়ে বেড়া পৌরসভার পোর্ট এলাকায় হুরাসাগর নদের পাড়ে প্রতিদিনই বাড়ছে মানুষের ভিড়। করোনা মহামারির এই প্রতিকূল সময়েও লোকজনকে বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে চলতে দেখা গেছে। বেড়াতে আসা বেশির ভাগ মানুষের মুখেই মাস্ক নেই এবং প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে একে অপরের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করছেন।
পোর্ট এলাকাটি আসলে হুরাসাগর নদের পারে অবস্থিত পরিত্যক্ত একটি বিশাল নৌঘাট। সবার কাছে জায়গাটির নাম পোর্ট বলে পরিচিত। দেখা গেছে, ঈদের দিন থেকে শুরু করে প্রতিদিনই এই এলাকায় শত শত মানুষ বেড়াতে আসছে। মানুষের এমন ভিড় উপলক্ষ্যে এখানে বসেছে হরেক রকম দোকানপাট। বিনোদনের জন্য রয়েছে নাগরদোলা ও নৌ ভ্রমণের ব্যবস্থা। পোর্ট এলাকায় শত শত মানুষ মাইক্রোবাস, কার, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেলে চড়ে বেড়াতে এসেছে। শুধু বেড়া উপজেলাই নয়, পার্শ্ববর্তী সাঁথিয়া ও শাহাজাদপুর এমনকি আরো দূর থেকেও লোকজন পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সেখানে বেড়াতে আসছে।
এদিকে সরজমিনে ঘুরে ঐ স্থানটির যেখানে সেখানে অসংখ্য খড়ের গাদা দেখতে পাওয়া যায়। কোথাও কোথাও গোবরের ঘুটে ও খড় শুকাতেও দেখা গেছে। অনেক স্থানেই নোংরা-আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়।
পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বেড়াতে এসেছিলেন সাঁথিয়া উপজেলার রাজিউর রহমান নামের এক বেসরকারি চাকরিজীবী। তিনি বলেন, ‘বেড়া-সাঁথিয়ায় বেড়ানোর মতো তেমন কোনো জায়গা নেই। এর মধ্যেই মন্দের ভালো হিসেবে পোর্ট এলাকাটি অনেকের পছন্দ। কিন্তু ভিড় আর অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের জন্য মনে হচ্ছে, না এলেই ভালো হতো।’
বেড়া পৌর এলাকার কলেজশিক্ষক নূর আমিন বলেন, ‘খোলামেলা জায়গায় ঘুরতে এসেছিলাম। এসে দেখি ভিড়ের পাশাপাশি জায়গাটা জঞ্জালেও ভরে আছে। জঞ্জাল না থাকলে এই স্থানেই মানুষ দূরত্ব বজায় রেখে বেড়ানোর সুযোগ পেত।’ বেড়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজুল ফিরোজুল আলম বলেন, ‘এখন ধান ওঠার মৌসুম বলে স্থানীয় লোকজন সেখানে খড়ের গাদা রেখে থাকতে পারেন। এর পরেও পোর্ট এলাকা জঞ্জালমুক্ত করার জন্য আমরা ইতিমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছি। তবে বেড়াতে আসা লোকজন স্বাস্থ্যবিধির প্রতি যাতে খেয়াল রাখেন, সে ব্যাপারে অনুরোধ রইল।’
