কুমিল্লায় হলুদ তরমুজ চাষে সাফল্য

আপডেট : ২১ মে ২০২১, ২১:৪১

মো. লুত্ফুর রহমান, কুমিল্লা প্রতিনিধি

মাচায় ঝুলছে সারি সারি হলুদ তরমুজ। মাচার নিচে তাকালে দেখা মেলে হলুদ তরমুজের সমারোহ। জমির এক পাশে কালো রঙের তরমুজেরও নজর কাড়া ফলন হয়েছে। তরমুজের বাইরের অংশ হলুদ ও কালো রঙের হলেও ভেতরে টকটকে লাল। তবে হলুদ তরমুজ রসালো ও মিষ্টি হওয়ায় চাহিদা অনেক বেশি। বীজ রোপণের মাত্র ৬৫ দিনের মধ্যে গাছে দেড় কেজি ওজনের হলুদ তরমুজের ফলন হয়েছে। প্রতিদিন অনেক ক্রেতার ভিড় জমে সেখানে। এরই মধ্যে বিক্রি শুরু করেছেন চাষি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও ভাইরাল হয়ে পড়েছে চাষির এ সাফল্য। কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার বলরামপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেন নামের এক চাষি হলুদ তরমুজের চাষ করে এখন বেশ আলোচিত হয়েছেন। পুরো মে মাস জুড়েই ঐ কৃষকের জমিতে তরমুজ পাওয়া যাবে বলে জানান সৌখিন চাষি আনোয়ার।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সদর দক্ষিণ উপজেলার বলরামপুর গ্রামে ৬৫ শতক জমিতে তরমুজ চাষ করেন আনোয়ার হোসেন। এর মধ্যে পরীক্ষামূলক এই প্রথম ২০ শতক জমিতে হলুদ তরমুজ এবং বাকি ৪৫ শতক জমিতে তিনি কালো তরমুজের চাষ করেন। চাষে খরচ হয়েছে ২ লাখ টাকা। বর্তমানে জমিতে তিনি হলুদ তরমুজ প্রতি কেজি ১৫০ টাকা এবং কালো তরমুজ ১০০ টাকায় বিক্রি করছেন। আনোয়ার হোসেন জানান, ‘গত বছর মাচায় কালো তরমুজ চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছি। এ বছর ইউটিউবে দেখে হলুদ তরমুজের বীজ সংগ্রহ করে চাষ করি। কৃষি বিভাগ বিভিন্নভাবে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছে।’ তিনি আরো জানান, হলুদ তরমুজের চাহিদা বেশি হওয়ায় আগামী কিছু দিনের মধ্যেই এগুলো বিক্রি হয়ে যাবে, তবে মে মাস জুড়ে কালো তরমুজ পাওয়া যাবে। ঝড় ও শিলাবৃষ্টি না হলে অন্তত সাড়ে ৬ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি।’

কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘কুমিল্লার মাটি তরমুজ চাষের জন্য বেশ উপযোগী। হলুদ তরমুজ রসালো, মিষ্টি  এবং এর পুষ্টিগুণ বেশি। চাষি আনোয়ার হোসেনের এ প্রচেষ্টা সফল করতে কৃষি বিভাগ থেকে সার্বিক তদারকি ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। জেলার অন্যান্য উপজেলায়ও হলুদ তরমুজ চাষে কেউ এগিয়ে আসলে কৃষি বিভাগ থেকে সব ধরনের সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়া হবে।’