পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, বাংলাদেশ জরুরিভিত্তিতে করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) টিকা পাওয়ার চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের যে কোনো দেশের পাঠানো টিকা গ্রহণ করতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে। গতকাল শুক্রবার সিএনএনকে দেওয়া এক লাইভ সাক্ষাত্কারে তিনি এ কথা বলেন।
শুরুতে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৬ কোটি ডোজ টিকা বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশকে দেওয়ার ঘোষণা করেছে। এটি খুবই ভালো খবর। তিনি বলেন, ভারত থেকে আমরা মোট প্রায় ১ কোটি ২ লাখ ডোজ টিকা পেয়েছি। আমরা প্রথমদিকেই এই টিকা প্রয়োগ শুরু করি। কিন্তু এখন বড় সমস্যা হলো অনেক জনগণ যারা অ্যাস্ট্রাজেনেকার প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছে তারা এখনো দ্বিতীয় ডোজ টিকা নিতে পারেননি। কারণ আমাদের কাছে এখন টিকা নেই।
সরকার বিভিন্ন দেশ থেকে টিকা পাওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করেছি। মার্কিন প্রশাসনও টিকা দিতে সম্মত হয়েছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্র্যাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) টিকার রপ্তানিতে অনুমোদন দিতে দেরি করছে। তিনি জানান, ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের বিস্তার ঠেকাতে সরকার কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে আমাদের আরো ভ্যাকসিন দরকার, এটিই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা প্রসঙ্গে আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি এখন বিচারাধীন বিষয়। তবে আমি বলব, বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা স্বাধীন এবং তিনি অবশ্যই ন্যায়বিচার পাবেন। কেউ বিনা কারণে শাস্তি পান এটা আমরা চাই না।
এর আগে বৃহস্পতিবার তিনি জানান, সাংবাদিক রোজিনার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার অত্যন্ত গণমাধ্যম বান্ধব। আমাদের কিছুই লুকানোর নেই। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আমি জানি, এ ঘটনার কারণে আমাদের অনেকের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে। আমরা আর এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি চাই না।
