বিনোদন প্রতিবেদক
‘কাজ নিয়ে প্রতিযোগিতার ধারাটা এখন নেই। এখন যারা নাটক নির্মাণ বা প্রযোজনা করেন তারা আগে থেকেই নির্ধারিত শিল্পীকে দিয়ে কাজ করার কথা বলে দেন। ফলে চাইলেও নতুন মুখ নিয়ে কাজ করা সম্ভব হয় না। এছাড়া সস্তা ভিউগোনা কিছু শিল্পীও দু-একটি কাজের ভিউ বেশি হলেই নিজেকে স্টার মনে করেন। ভিউ গুণে এক-দু বছরে তারকা হওয়া যায় না। আমার মনে হয় এই মানসিকতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।’—নাটকের বর্তমান অবস্থা নিয়ে কথাগুলো বলেন অভিনেত্রী ও নির্মাতা তানিয়া আহমেদ। শোবিজে তিনযুগ ধরে কাজ করা এই অভিনেত্রী নিজের সাম্প্রতিক কাজ নিয়ে আরো বলেন, ‘করোনার কারণে তো চাইলেই সরব উপস্থিতি নিয়ে কাজ করতে পারি না। বর্তমানে নিয়মিত কাজ যেগুলো প্রচার হচ্ছে সেগুলো করছি। পাশাপাশি আগামী মাসে আমার গেম শো অনন্যা একশোর কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বো।’
উল্লেখ্য, অভিনেত্রী তানিয়া আহমেদ সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরেছেন। প্রবাস জীবনযাপন করলেও দেশের শোবিজে বরাবরই সরব উপস্থিতি রয়েছে তার। এবারের ঈদেও তানিয়া অভিনীত বেশ কয়েকটি নাটক প্রচার হয়েছে।
অন্যদিকে, দেশের নাটকে চরিত্র সংকট দিনদিন আরো তীব্র হচ্ছে। যে কারণে একটি ভালো গল্প তুলে ধরতে নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এছাড়া নাটক ও ওয়েব সিরিজগুলোতে অশ্লীল সংলাপ ও দৃশ্যের কারণে নাটকের দর্শক কমে যাওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য মাধ্যমে ঝুঁকে পড়ছে। তানিয়া এ প্রসঙ্গে আরো বলেন, ‘একটা সময় একটি নাটকে পুরো পরিবার দেখা দেখানো হতো। গল্পের প্রয়োজনে যাকে দরকার তাকে কাস্ট করা হতো । ধীরে ধীরে সেই ধারা থেকে আমরা পিছিয়ে এসেছি। আর অশ্লীলতা নিয়ে বলবো, এটা নির্ভর করে পরিচালকের ওপর। সে বিষয়টি কীভাবে উপস্থাপন করবে তার ওপর। আমরা আসলে সেই দৃশ্য বা সংলাপকে শৈল্পিকভাবে তুলে ধরতে পারছি না, তাই অশ্লীল মনে হয়। তবে এখন একটু একটু করে পরিবর্তন হচ্ছে। এই পরিবর্তনটা খুবই দরকার। না হলে নাটকের মান আরো নিম্নমুখী হবে।’ শুধু নাটক বা বিজ্ঞাপনে সফল পদচারণা নয়, তানিয়া চলচ্চিত্রে অভিনয় ও একটি চলচ্চিত্র এরইমধ্যে পরিচালনাও করেছেন। ছবিটি প্রশংসিত হলেও সেভাবে তাকে আর নির্মাণে দেখা যায়নি। এ নিয়ে জানতে চাইলে তানিয়া জানান, একটি ছবির গল্প এরইমধ্যে তিনি তৈরি করেছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী দেড়-দুই বছরের মধ্যে নতুন ছবির কাজ শুরু করবেন তিনি।
