বাঘা (রাজশাহী) সংবাদদাতা
বেশি দাম পাওয়ার আশায় মৌসুমের শুরুতে অপরিপক্ব আম চালান দেওয়ায় বাঘার কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ীর মাথায় বাড়ি পড়েছে। গত কয়েক বছর তারা এ কারবার করে লাভবান হলেও এবার পত্রিকায় আগাম সংবাদ প্রকাশ এবং মানুষের মধ্যে জনসচেতনতা সৃষ্টি হওয়ায় আগের মতো কেউ আম কিনছেন না। এতে করে লোকসান গুনছেন মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা। জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে আম পাড়ার দিনক্ষণ (সময়) বেঁধে দিলেও এর এক সপ্তাহ আগ থেকে গুটি এবং লক্ষণভোগ ভাঙা শুরু করে কতিপয় ব্যবসায়ী। এরপর সেই আমে কেমিক্যাল মিশিয়ে চালান দেয় বিভিন্ন শহরে। উপজেলার বলিহার গ্রামের আমবাগান মালিক খালেদুল ইসলাম, বাঘার মুক্তার হোসেন এবং পাকুড়িয়ার আশরাফুদৌল্লা বলেন, রাজশাহীকে আমের জন্য বিখ্যাত বলা হলেও আমপ্রধান অঞ্চল হিসেবে খ্যাত চারঘাট-বাঘা এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ। মাটিগত কারণে বাঘার আম গত কয়েক বছর ধরে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। কিন্তু মৌসুমের শুরুতে অসাধু ব্যবসায়ীরা অপরিপক্ব আম দেশের বিভিন্ন শহরে চালান দেওয়ায় এ অঞ্চলের আমের যে সুনাম তা নষ্ট হচ্ছে। এদিক থেকে এ বছর যারা আগাম আম পাঠিয়েছেন তারা ন্যায্য দাম না পাওয়ায় বিপাকে রয়েছেন। এ অঞ্চলের বাগানমালিকদের দাবি, অসাধু ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় এনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হোক। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান জানান, বাঘায় আমবাগান রয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমিতে। খাদ্যশস্যের পাশাপাশি অর্থকরী ফসল হিসেবে এখানে আমই প্রধান। প্রতি বছর বাঘা উপজেলার কৃষকরা শুধু আম বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করেন ৬ থেকে ৭০০ কোটি টাকা। অনুরূপ অর্থ উপার্জন করেন পার্শ্ববর্তী চারঘাট উপজেলার আমচাষিরা।
