সোহেল সারোয়ার চঞ্চল
কাতার যাবে বলে বাংলাদেশ ফুটবল দল গত ১৭ মে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে অনুশীলন শুরু করেছে। ফুটবল দলে এত দিন অনেক কিছু নিয়ে কাজ করলেও গতকাল একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলনে সময় কাটিয়েছেন কোচ জেমি ডে। এবার ফরমেশন নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন কোচ। ফরমেশনটা কীভাবে সাজালে প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান ঘায়েল হতে পারে—তা নিয়ে কাজ করছেন খেলোয়াড়রা। দুই উইং দিয়ে আক্রমণ করার জাল সাজিয়েছেন কোচ। এতে বাংলাদেশের ফুটবলাররা কতটুকু সাহস নিয়ে খেলতে পারেন, সেটি দেখতে চেয়েছিলেন জেমি। দুই উইং দিয়ে আক্রমণ করে গোলটা কীভাবে আদায় করতে হবে তা নিয়েও কাজ করেছেন কোচ। কাজটা কেমন হলো জানতে চাইলে দলের নতুন ফুটবলার মোহাম্মদ জুয়েল ভালো ভালো কথাই বলে গেলেন।
জুয়েল বললেন, ‘ফরমেশন নিয়ে ট্রাই করা হচ্ছে, দুই দিক থেকে আক্রমণ করলে আমরা বলটা কোথায় পাব। কীভাবে মধ্যমাঠ থেকে খেলাটা ওপরে উঠে আসবে। সেখান থেকে গোল আদায় করব কীভাবে এটা নিয়ে ভালো ট্রেনিং হচ্ছে।’ জুয়েলর ঠোঁটে হাসি। চোখে-মুখে আত্মবিশ্বাস। তার কণ্ঠে যেসব কথা উঠে এসেছে তাতে মনে হলো এই তরুণের বুকে শক্তি এবং সাহস দুটোই আছে। জুয়েল বললেন, ‘উইং থেকে আমরা আক্রমণ করব। সেখান থেকে যে গোল আদায় করার সেটা করা হবে। এরই মধ্যে আমরা গোলও করেছি। সুমন, আমি ও মতিন গোল পেয়েছি। এটা দলের জন্য ভালো দিক। উইং এবং স্ট্রাইকারদের মধ্যে বোঝপড়াটা ভালো হচ্ছে। ডিফেন্স ভেদ করা পাস কীভাবে দেওয়া যায়—এটা নিয়ে কাজ করা হয়েছে। এই ট্যাকটিসটা নিয়ে আজকেই প্রথম অনুশীলন হয়েছে। প্রথম দিন অনুসারে ভালোই হয়েছে।’
বিশ্বকাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশ তিন ম্যাচ খেলবে কাতারে রাজধানী দোহায়। ই-গ্রুপে ৩ জুন আফগানিস্তান, ৭ জুন ভারত এবং ১৫ জুন ওমানের বিপক্ষে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ। ৩০ মে কাতার যাবে বাংলাদেশ। স্ট্রাইকাররা গোল না পেলে ম্যাচ ভালো খেলেও লাভ নেই। কারণ দিন শেষে গোলই হচ্ছে ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দেবে।
তরুণ ফুটবলার জুয়েল আগেই জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন কিন্তু এখনো ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়নি তার।
প্রতিপক্ষ নিয়ে জুয়েল বললেন, ‘ওদের স্পিড আমাদের চেয়ে বেশিই হবে। আমাদের টার্গেট হচ্ছে আমাদের গতি দিয়ে ওদের গতিটাকে পেছনে ফেলা।’ নিজের টার্গেট নিয়ে জুয়েল বললেন, ‘আমি যখনই জাতীয় দলে প্রথম ম্যাচটি খেলব , টার্গেট থাকবে গোল করার।’
গতকাল দুপুরে জুয়েল যখন সংবাদ মাধ্যমের প্রশ্নের জবাব দিতে সামনে এলেন তখন তার শরীরে অনুশীলনের হাতাকাটা গেঞ্জি। কুনইয়ের ওপর থেকে কাঁধ পর্যন্ত শরীরের রংটা ফর্সা দেখাল। আর রোদে পুড়ে কুনইয়ের নিচে কালো হয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে তীব্র গরমে খেলোয়াড়দের গা পুড়ে যাচ্ছে। তাতে কোনো ক্লান্তি নেই। কষ্ট বুকে চেপে দেশের জন্য ভালো খেলতে চান এবং সামর্থ্যের সবটুকু ঢেলে দিতে চান তারা।
