দেশ স্বাধীন হলেও বাক্স্বাধীনতা নেই

আপডেট : ২২ মে ২০২১, ২৩:৪৮

দেশ স্বাধীন হয়েছে কিন্তু বাক্স্বাধীনতা নেই। একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিককে দুর্নীতি উন্মোচনের জন্য পুরস্কৃত না করে অবমাননা করছি। এটি সত্যিই লজ্জাজনক, আমরা নাগরিক সমাজের সবাই লজ্জিত, দুঃখিত এবং মর্মাহত, কিন্তু যারা এসব অপকর্ম করছে তাদের মধ্যে লজ্জিত, দুঃখিত কিংবা মর্মাহত হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখছি না। 

গত শুক্রবার বিকালে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের গ্রেফতার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণের প্রতিবাদে অনলাইনে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। নাগরিক সংগঠন সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে।

আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এম এ মতিন বলেন, প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের জামিন নিয়ে যেটা হলো সেটা আনইউজিয়াল। জামিন না দেওয়ার ফলে অনেকগুলো সাংবিধানিক ধারা ভায়োলেশন হয়ে গিয়েছে। কোর্টের জামিন না দেওয়ার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়া যেতে পারে। 

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, রোজিনাকে ফাঁসাতে হবে, তাই তাড়াহুড়া করে কোনো আইন খুঁজে না পেয়ে অফিস সিক্রেসি অ্যাক্টে মামলা দেওয়া হয়েছে।

মানবাধিকারকর্মী ড. হামিদা হোসেন বলেন, আমি প্রথম আলোকে রোজিনার স্বাস্থ্য খাত নিয়ে লেখাগুলো সাপ্লিমেন্ট আকারে প্রকাশ করার অনুরোধ জানাই, যাতে সবাই আবার পড়তে পারে। 

সাংবাদিক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, যে রাষ্ট্রে বাবা-মেয়ের টেলিফোন প্রকাশ হয়ে যাচ্ছে সেখানে কী কথা বলব! বলেন? রোজিনাকে নিয়ে যা হলো, তা ৫০ বছরে আমি দেখিনি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, একতাবদ্ধ হয়ে দল-মত নির্বিশেষে স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের জন্য সোচ্চার হয়ে আন্দোলন সৃষ্টি করতে হবে। তা না হলে এটি আরও বেড়ে যাবে, চরম পর্যায়ে চলে যাবে।

অধ্যাপক ড. শাহনাজ হুদা বলেন, প্রসিউকিউশন যেভাবে চলছে এতে নির্বাহী বিভাগ এবং বিচার বিভাগের পার্থক্য আছে বলে মনে হলো না।

সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, অর্থনীতিবিদ ড. হাসান মনসুর, অধ্যাপক পারভীন হাসান, সুজন কোষাধক্ষ্য আবু নাছের বখতিয়ার, সুজন কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার, আদিবাসী নেতা সঞ্জীব দ্রং প্রমুখ। সভাটি সঞ্চালনা করেন সুজন সমপাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন জেলার অর্ধশতাধিক সুজন নেতৃবৃন্দ এতে অংশগ্রহণ করেন।