বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মান

আপডেট : ২৩ মে ২০২১, ০৯:২৯

আজ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জুলিও কুরি শান্তি পুরস্কার প্রাপ্তির ৪৮তম বার্ষিকী। ইতিহাসের এই দিনে বঙ্গবন্ধুকে বিশ্ব শান্তি পরিষদের শান্তি পদক জুলিও কুরি শান্তি পুরস্কার প্রদান করা হয়।ফ্যাসিবাদবিরোধী, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রামকে বিশ্ব মানবতার ইতিহাসে চির অম্লান করে রাখার লক্ষ্যে বিশ্ব শান্তি পরিষদ ১৯৭৩ সালের ২৩ মে বঙ্গবন্ধুকে এই শান্তি পদক প্রদান করে। বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত অর্জনটি সদ্য স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্য দেশের অর্জন হিসেবে দেখা দিয়েছিলো। সেই অর্জনকে আজও নানা আয়োজনের মাধ্যমে স্মরণ করে জাতি। তবে করোনা মহামারির জন্য এবার সীমিত পরিসরে আয়োজন করা হবে অনুষ্ঠানের।

এ সম্মান পাওয়ার পর বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘এ সম্মান কোনো ব্যক্তি বিশেষের জন্য নয়। এ সম্মান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মদানকারী শহিদদের, স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর সেনানীদের। ‘জুলিও কুরি’ শান্তি পদক সমগ্র বাঙালি জাতির।’ বঙ্গবন্ধুর জুলিও কুরি শান্তি পদক অর্জন আপামর বাঙালির এক বিরল সম্মান। এ মহান অর্জনের ফলে জাতির পিতা পরিণত হয়েছেন বঙ্গবন্ধু থেকে বিশ্ববন্ধুতে। কিন্তু এ প্রাপ্তি বা অর্জন দেশি-বিদেশি অনেকের কাছেই ঈর্ষণীয় বিষয় ছিল।

শোষিত ও নিপীড়িত জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তথা বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় তার অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোতে বিশ্ব শান্তি পরিষদের প্রেসিডেন্সিয়াল কমিটির সভায় বাঙালি জাতির মুক্তি আন্দোলন এবং বিশ্ব শান্তির সপক্ষে বঙ্গবন্ধুর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জুলিও কুরি শান্তি পদক প্রদানের জন্য শান্তি পরিষদের মহাসচিব রমেশ চন্দ প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। পৃথিবীর ১৪০টি দেশের শান্তি পরিষদের ২০০ প্রতিনিধির উপস্থিতিতে শেখ মুজিবুর রহমানকে এই পদক প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরে বিশ্ব শান্তি পরিষদের উদ্যোগে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এশীয় শান্তি সম্মেলনে ১৯৭৩ সালের ২৩ মে বঙ্গবন্ধুকে ঐ পদক প্রদান করেন বিশ্ব শান্তি পরিষদের সেক্রেটারি জেনারেল রমেশ চন্দ।

ম্যারি কুরি ও পিয়েরে কুরি ছিলেন বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী। রেডিওলজির ওপর উইলিয়াম রঞ্জেনের আবিষ্কারের পথ ধরে কুরি দম্পতি তাদের গবেষণা চালিয়ে যান এবং পলোনিয়াম ও রেডিয়ামের মৌল উদ্ভাবন করেন। তাদের উদ্ভাবন পদার্থবিদ্যায় এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করে। বিশ্ব শান্তির সংগ্রামে এই বিজ্ঞানী দম্পতির মহান অবদান চিরস্মরণীয় করে রাখার লক্ষ্যে বিশ্ব শান্তি পরিষদ ১৯৫০ সাল থেকে ফ্যাসিবাদবিরোধী, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রামে, মানবতার কল্যাণে শান্তির সপক্ষে বিশেষ অবদানের জন্য বরণীয় ব্যক্তি ও সংগঠনকে জুলিও কুরি শান্তি পদকে ভূষিত করে আসছে।

বঙ্গবন্ধুর আগে যারা জুলিও কুরি শান্তি পদক লাভ করেছিলেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—ইয়াসির আরাফাত, নেলসন ম্যান্ডেলা, মার্টিন লুথার কিং, মাদার তেরেসা, ফিদেল ক্যাস্ট্রো, হো চি মিন, জওহরলাল নেহেরু, ইন্দিরা গান্ধী, কবি ও রাজনীতিবিদ পাবলো নেরুদা, নিওনিদ ব্রেজনেভ প্রমুখ।

দিবসটি স্মরণে কর্মসূচি: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের অংশ হিসেবে তার উক্তি নিয়ে প্রকাশিত ই-পোস্টারের শিরোনাম করা হয়েছে ‘মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষার জন্য শান্তি একান্ত দরকার—বঙ্গবন্ধু। জুলিও কুরি শান্তি পুরস্কার প্রাপ্তির ৪৮তম বার্ষিকীতে শান্তি, মুক্তি ও মানবতার অগ্রদূত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি।’

এছাড়াও ‘জুলিও কুরি’ শান্তি পুরস্কার প্রাপ্তির ৪৮ বছর উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুসরণ করে করোনা ভাইরাসজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জনসমাগম এড়িয়ে দিবসটি উদ্যাপন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ উপলক্ষ্যে নতুন প্রজন্মের কাছে বিশ্ব শান্তি ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান তুলে ধরার জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি নিবেদিত ‘বিশ্ব শান্তির দূত :জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করা হয়েছে। এই প্রামাণ্যচিত্র সব টেলিভিশন চ্যানেল ও অনলাইন মিডিয়ায় সম্প্রচার করা হবে।

ইত্তেফাক/কেকে