ঢাকার পল্লবীতে সন্তানের সামনে সাহিনুদ্দীনকে কুপিয়ে হত্যার প্রধান দুই অভিযুক্ত মানিকের পর মনিরও ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা গেছে। ডিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যায় মনির। আর গত শুক্রবার ভোরে রূপনগর এলাকায় র্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয় এ মামলার আরেক আসামি মানিক। এই মামলায় সাবেক এমপি এম এ আউয়াল নির্দেশদাতা হিসেবে গ্রেফতার হয়েছেন। শনিবার রাত ২টার দিকে পল্লবীর সাগুফতা হাউজিং এলাকায় গোলাগুলির ঐ ঘটনায় মনিরের মৃত্যু হয় বলে পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ইফতেখারুল ইসলাম জানিয়েছেন।
পল্লবীর সাহিনুদ্দীন হত্যাকাণ্ডের একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে মানিক ও মনিরকে সরাসরি হামলায় অংশ নিতে এবং সাহিনুদ্দীনের শরীরের বিভিন্ন অংশে কোপাতে দেখা যায় বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য। পুলিশ কর্মকর্তা ইফতেখারুল জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মনিরকে শনিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে পল্লবীর ২২তলা গার্মেন্টসের পেছনে ঈদগাহ মাঠের পাশ থেকে গ্রেফতার করা হয়। রাতেই মনিরকে নিয়ে পল্লবীর সাগুফতা হাউজিং এলাকায় অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে গেলে ডিবি পুলিশের সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলি হয়। এ সময় সে পালানোর চেষ্টা করলে গোলাগুলির মধ্যে পড়ে গুলিবিদ্ধ হয়।
পরে মনিরকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ইফতেখারুল ইসলাম। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করার কথাও জানিয়েছেন তিনি। গত ১৬ মে বিকালে মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের ৩১ নম্বর সড়কে সাহিনুদ্দীনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয় তার ছেলের সামনে। ঐ ঘটনায় তার মা আকলিমা বেগম ২০ জনকে আসামি করে পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন। ঢাকার পল্লবীর উত্তর কালশীর সিরামিক এলাকার বাসিন্দা আকলিমার দুই ছেলের মধ্যে সাহিনুদ্দীন ছোট। বাউনিয়া মৌজার উত্তর কালশীর বুড়িরটেকের আলীনগর আবাসিক এলাকায় ১০ একর জমি রেখে গেছেন আকলিমার প্রয়াত স্বামী। সেই জমি দখল করতেই তার সন্তানকে খুন করা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন আকলিমা।
আকলিমা অভিযোগ করেন, ঐ জমি দখলের চেষ্টা করে আসছিলেন হ্যাভেলি প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের মালিক, লক্ষ্মীপুরের সাবেক এমপি এম এ আউয়াল। তিনি ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান ও তরীকত ফেডারেশনের সাবেক মহাসচিব। এ হত্যামামলায় প্রধান আসামি আউয়ালকে গত বৃহস্পতিবার ভোরে ভৈরবের একটি মাজার থেকে গ্রেফতার করে র?্যাব। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। সাহিনুদ্দীন খুন হওয়ার পর আউয়ালসহ মোট সাত জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এছাড়া মামলার অন্যতম দুই আসামি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়। ডিবিতে আউয়ালকে জিজ্ঞাসাবাদকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুধু সাহিনুদ্দীন নয়, গত ১৫ বছরে ঐ এলাকার বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আউয়ালের সম্পৃক্ততার তথ্য মিলেছে। ঐ তথ্যগুলো এখন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
