এদেশের বিভিন্ন সংকটে বরাবরই সংস্কৃতিক অঙ্গনের জনপ্রিয় তারকারা নিজ উদ্যোগে সহযোগিতা করেছেন। ৭০/৮০ দশকের তারকারা বরাবরই এই কাজগুলো স্ব উদ্যোগে করেছেন। কিন্তু করোনাকালীন এই দীর্ঘ দেড় বছরের সংকটে চলচ্চিত্র, টিভি ও সঙ্গীত জগতের জনপ্রিয় ও সর্বোচ্চ বাজেট নেয়া তারকাদের তেমন একটা দেখা যায়নি। কোনো ঘোষণাও শোনা যায়নি। এ নিয়ে সম্প্রতি চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর বলেন, ‘কীসের সুপারস্টার। সুপারস্টার শুধু ছবি বা নাটক চললেই তাকে বলে না। তার মেধা মনন ও সামাজিক দায়বোধ থাকতে হয়।’
মিশা সওদাগর নিজেদের গ্লানি নিয়েই বলেন এদেশে এখন কোনো সুপারস্টার নেই! কারণ শুধু পর্দার তারকা হলেই হয় না। তাকে সহজাত মানুষ হতে হবে আগে।
পার্শ্ববর্তী দেশের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘আমরা কথায় কথায় তুলনা করি। তাই বলিউডে গেলাম না। আমাদের পাশের পশ্চিমবঙ্গে দেব এই করোনাকালীন সংকটে সহযোগিতার জন্য ১ কোটি রুপি দিয়েছেন। এখন ওপারের দেব ১ কোটি রুপি দিলে আমাদের তারকারা অনন্ত ১ লাখ করে দিক। সেখানে আমাদের তারকাদের কন্ট্রিবিউশন কোথায়?’
উল্লেখ্য, শুধু চলচ্চিত্রাঙ্গনেই নয়। বরং একাধিক প্লাটফর্মে বিভিন্ন ওয়েব ফিল্ম বা নাটক করেও এদেশের একাধিক তারকারা আকাশচুম্বী পারিশ্রমিকে কাজ করছেন। কিন্তু সামাজিক দায়বোধের প্রশ্নে তাদের দেখা যায় না। অনেকে এই প্রসঙ্গে একটা খোঁড়া যুক্তি দিয়ে এড়িয়ে যান যে, দান সবসময় গোপনে করতে হয়। এই যুক্তির ফাঁক দিয়ে সমাজ বিচ্যুতি করছেন অধিকাংশ তারকারা। কিন্তু এই বৈশ্বিক সংকটে যে সশরীরে এগিয়ে আসছে যেখানে সকল তারকারা। সেখানে একেবারে নিরব জনপ্রিয় ও অর্থবিত্তে এগিয়ে থাকা তারকারা।
এ ব্যাপারে সকলে মুখ বুজে থাকলেও অবশেষে মুখ খুললেন মিশা সওদাগর। মিশা বলেন, ‘এই বিপদের দিনে তারকাদের হাত পা গুটিয়ে বসে থাকলে হবে না। নিজেদের বিবেকের দায়বোধ থাকাটাও জরুরী।
উল্লেখ্য, করোনাকালীন সময়ে অনন্ত জলিল, ডিপজল থেকে শুরু করে হাতে গোনা কয়েকজন বিভিন্ন মাধ্যমে শিল্পীদের সংকটে পাশে থাকছেন। এমনকি ব্যক্তি উদ্যোগে মিশা সওদাগরও নিজ উদ্যোগে কী করেছেন তা অবশ্য বলেননি। তবে এই দীর্ঘ সংকটে প্রত্যেক সংগঠনের নেতৃবৃন্দকেই সচেতন হয়ে এগিয়ে আসাটা জরুরী।
